কলকাতা: ৪ মাস আগেই রাজ্যপাট গেছে। তারপর দল ভেঙেছে। সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গীরা সঙ্গ ছেড়েছেন। এবার নিজের তৈরি দলের নাম ও প্রতীকও হারালেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়! নির্বাচন কমিশন আপাতত তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিল। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, কখনও ভাবিনি যে, প্রতীক ও দলের নাম ফ্রিজ করে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, ‘রামচন্দ্রের অভিশাপেই সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে’।
প্রতীক গেল, দীর্ঘদিনের নামও হাতছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গা… একটা সময় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আকাশে ঘুড়ির মেলা বসত! কোনও ঘুড়ি কাটা গেলে বলা হত ভোকাট্টা! কেউ আনন্দ পেত, কেউ দুঃখ। রাজনীতির ময়দানে বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক আগে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রের উপ নির্বাচনে ইভিএম থেকে আপাতত কাটা গেল জোড়া ফুল! বাদ গেল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস! নিজের তৈরি দলের নাম ও প্রতীক হারালেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়! কার্যত সর্বহারা হয়ে গেলেন তিনি! নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত দলের ‘নাম’ গেল, দলের ‘প্রতীক’ গেল, নন্দীগ্রামে শেষ মুহূর্তে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়েরও প্রার্থীও ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন।
এই প্রসঙ্গে তাপস রায় বলছেন, ‘এটাই তো হওয়ার ছিল। এটাই তো পরিণতি।’ আর এই ঘটনা নিয়ে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘এটা উপরওয়ালার বিচার’। কুণাল ঘোষ অবশ্য বলছেন, ‘আমাদের কোনও চাপই নেই, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক আমরা।’ তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বৈরথের দুই নতুন প্রতীকের আর্বিভাব ঘটল পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে! ‘কালীঘাট-শিবিরে’র প্রার্থীরা লড়বেন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে। ‘খাম’ প্রতীকে লড়বে ‘ঋতব্রত-শিবির’। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের শিবির লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। ঋতব্রতদের শিবির ভোট যুদ্ধ করবে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে।
নাম ও প্রতীক ফ্রিজ, কী বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এরইমধ্য়ে নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্য়াহারের পর, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে, যদি তৃতীয় কোনও শক্তি থাকলে, তার নাম হচ্ছে কংগ্রেস। তাই তাঁর মনে হয়েছে কংগ্রেসকে সমর্থন করে দেওয়া ভাল। কারণ তাঁর খেলোয়াড় নেই।’ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ৪ মাসের মধ্যে, নিজেই কার্যত সর্বহারা হয়ে গেলেন রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! প্রতীক এবং দলের নাম হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পরে, সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে আজ কালো দিন। দেশে যা হচ্ছে সেটা খুব দুর্ভাগ্য়জনক, অসাংবিধানিক, অনৈতিক, অগণতান্ত্রিক এবং পুরোপুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য় প্রণোদিত। আমরা কখনও ভাবিনি যে, ওরা (নির্বাচন কমিশন) আমাদের প্রতীক ও দলের নাম ফ্রিজ করে দেবে।’
আর নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পরে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অতি দর্পে হত লঙ্কা, অতি মানে চ কৌরবা। দম্ভ যার হবে, সেই দম্ভের চূর্ণ ভগবান করবে। সর্বশক্তিমান আছেন। রামচন্দ্র মহারাজের অভিশাপেই সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’