কলকাতা: সল্টলেকে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কন্ট্রোল রুমের কাজ খতিয়ে দেখেন তিনি। এদিন তিনি চালু করলেন একটি টোল ফ্রি নম্বর। সেই টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি রাস্তাঘাটের অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন জুন থেকে যে পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে, সেই কারণে কিছু রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জুন থেকে এখনও পর্যন্ত, রাজ্য জুড়ে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু রাস্তার অবস্থা ভাল নয়। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটা বৈঠক হবে। এবং জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারও এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবে। আশা করি দুর্গাপুজোর আগে আমরা চেষ্টা করছি সব রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক মেরামত করে ফেলতে।”
রাতের দিকে কেন কিছু জায়গায় জ্যাম হচ্ছে? প্রশ্ন শুনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে পূর্বতন সরকারের কথা। তিনি বললেন, “পূর্বতন সরকার পুলিশকে বাধ্য করতে টাকা তুলে পাঠাতে। স্পষ্ট কথা। নীচুতলার পুলিশদের ডিএ মেলেনি। ১ হাজার ৫০০ টাকা রেশন পেত তারা। উত্তরপ্রদেশে ১ লক্ষ মানুষ প্রতি ২০০ জন পুলিশ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সেটাই ১০৬ জন। ৪ হাজারের বেশি পুলিশের গাড়ির বিমা নেই। ১৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। পূর্বতন সরকার বিভিন্ন দফতরকে অবহেলা করেছে। সেই জন্যই এই সব হয়েছে। উপর থেকে জা নির্দেশ আসত, ওঁরাও তাইই করত। ওঁদের কোনও দোষ নেই এতে। আমরা এই সব বন্ধ করে দিয়েছি। যে কারণ এখন আর ওই রকম জ্যাম হয় না।”
যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানান কিছু ক্ষেত্রে অঙ্কুরহাটি বা সাঁতরাগাছিতে জ্যাম হচ্ছে। তার কারণও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা থেকে খড়গপুর হয়ে মুম্বই যাওয়ার যে রাস্তা সেই রাস্তা চলে গিয়েছে অঙ্কুরহাটি বা সাঁতরাগাছির উপর দিয়ে। যে কারণে এই রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “অঙ্কুরহাটি থেকে ধুলাগড় ও সাঁতরাগাছিতে যে জ্যাম হচ্ছে, সেটা রাস্তার কারণে। ওখানে রাস্তার কাজ চলছে। আপনি তো জানেন জুন থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বৃষ্টি হয়েছে। এখানে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের কাজ হচ্ছে। আমরা সব রাস্তার মূল্যায়ন করেছি। গার্ডেন রিচ শিপ বিল্ডার্সের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। ওখানে রাস্তা খুব খারাপ। পোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে সেই বিষয়টা আমরা ঠিক করিয়েছি।
রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় রাস্তার অবস্থা ভাল নয়। সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাগুইআটি, চিনার পার্ক ক্রসিংয়ে রাস্তার অবস্থা খারাপ। এই সবের উপরই আমরা কাজ করছি। কাল তো সারাদিনই বৃষ্টি হল। একটু বিশ্বাস রাখুন আমাদের উপর। কাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে; কথা কম, কাজ বেশি।”