কলকাতা: পুরসভা নির্বাচনের আগেই জোড়াফুল প্রতীকচিহ্ন নিয়ে ফয়সালা হয়ে যাবে? সেই নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষ সুপ্রিম কোর্টের। আগামী নির্বাচনের আগে প্রতীকচিহ্ন নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দিতেই হবে বলে জানিয়ে দিল সর্বোচ্চ আদালত। বলা হয়েছে, পরের নির্বাচনের আগে কমিশনকে চূড়ান্ত নির্দেশ দিতেই হবে। প্রয়োজনে প্রতিনদিন শুনানীর মাধ্যমি বিষয়টির ফয়সালা করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, আসন্ন পুরভোটের আগেই কি ফয়সালা হয়ে যাবে? (Mamata TMC Symbol Row)
তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে জোড়াফুল প্রতীকচিহ্ন ফ্রিজ় করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, শিবসেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের ফল দেখেছেন তাঁরা। দলের অনেক সাংসদ এবং বিধায়ক এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে চলে গিয়েছিলেন। তাই এক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে ডেডলাইন কী হবে, প্রতীক কী হবে, তা কমিশনই ঠিক করবে বলে জানিয়েছে আদালত। (Supreme Court)
পরবর্তী নির্বাচন বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি আদালত। তবে মমতার হয়ে আদালতে সওয়াল করার সময় বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, পরবর্তী নির্বাচন নভেম্বরে। কলকাতা-সহ অন্য জায়গায় পুর নির্বাচন রয়েছে। তার আগে, অক্টোবর মাসে যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আর্জি জানান তিনি। সিব্বলের ওই আর্জির বিরোধিতা করে কমিশন। তারা জানায়, ১০ দিন, ২০ দিন বা একমাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রোজ শুনানি হয়। তিন-চার ঘণ্টা ধরে চলে। সব পক্ষের হলফনামা যাচাই করে দেখা হয়। সবকিছুতে সময় লাগে। কত দ্রুত হতে পারে, তা পরামর্শ করে জানানো হবে। তবে ডেডলাইন দেওয়া ঠিক হবে না।
এতে আদালত জানায়, নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে যে, কতদিনের মধ্যে সকলের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই শিবিরকেই যাতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়, তাও জানানো হয়। সব মিলিয়ে বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগতে পারে, তা জানাতে হবে কমিশনকে। কমিশনের আইনজীবী ডিএস নায়ডু জানান, আগামী সোমবার জানাবেন তিনি। কতদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তা সোমবারই জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন মমতা। এদিন আদালত জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মনোনয়নপর্বও জমা পড়ে গিয়েছে সেখানে। তাই এখন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। আপাতত কোনও উপায় নেই। তাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান সিব্বল। কমিশন জানিয়েছে, সোমবারই তারা সেই নিয়ে কিছু বলতে পারবে। আপাতত সোনবার পর্যন্ত শুনানি স্থগিত।