কলকাতা: অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের (Sumit Roy) বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। নগদে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সুমিত রায় অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন বলে সুপ্রিম কোর্টে জানালেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী। পদবির বানানকে হাতিয়ার করার অভিযোগও আনা হল সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে।

পদবির বানানকে হাতিয়ার করে প্রশ্নের উত্তর এড়ানো থেকে তদন্তে অসহযোগিতা!! বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য় সরকারের আইনজীবী এমনই সব অভিযোগ তুললেন! 

রাজ্য় সরকারের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ফের সরাসরি বলেন, ‘সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। ২০২১ সালের ১৭ জুন অ্যাকাউন্টে নগদ ৭১ লাখ জমা করেছেন তিনি। হতে পারে তাঁরা ৫ কোটি টাকা পেয়েছেন এবং ৭১ লক্ষ টাকা জমা করেছেন।’

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন সুপ্রিম কোর্টে আরও সওয়াল করেন, ‘পদবির বানানে Roy এবং Ray নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভাউচার দেখানো হলে, সুমিত রায় টাকা জমার কথা অস্বীকারও করেন। পরে ব্য়াঙ্কে গিয়ে আমরা জানতে পারি, তিনিই KYC করেছেন এবং PAN ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের নগদ জমা করেছেন।’ এরপরই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এইজন্যই আমরা একে হিমশৈলের চূড়ামাত্র বলছি। নগদে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা করেছেন সুমিত রায়। নিজেকে আপ্তসহায়ক বলে দাবি করা একজন নিজের নামে কোটি কোটি টাকা নগদে জমা করছেন!’ 

সুপ্রিম কোর্টে সুমিত রায়ের আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করেন, আজ একটি চার্জশিট ফাইল করা হয়েছে। তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে বলতে শোনা যায়, সেটা সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নয়, অন্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। সুমিত রায়ের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেনি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। 

আরও পড়ুন:- বারংবার শোনা গিয়েছে জল্পনা, এবার তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় 

আমফানের ত্রাণ ‘দুর্নীতি’, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে ‘দুর্নীতি’, ভুল চিকিৎসায় পা বাদের অভিযোগ, পৈলানের রিসর্টে ‘তোলাবাজি’, মাটি ‘চুরি’, জমি ‘দুর্নীতি’, চাকরি দেওয়ার নামে ‘প্রতারণা’, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ভুরি ভুরি অভিযোগ। 

এর মধ্যে প্রায় সব মামলাতেই, সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত রায়ের আইনজীবী। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলেও, সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। আমরা দেখতে চাই এটা শুধুমাত্র হিমশৈলের চূড়া কি না। 

ডেবরার চাকরি-প্রতারণার মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক। বাকি মামলাগুলোর ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত রায়। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি জানান সুমিত রায়ের আইনজীবী। সেই আবেদন অবশ্য খারিজ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *