নয়াদিল্লি : “সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে তা বেআইনি বলে গণ্য হয়।” SIR ইস্যুতে বিতর্কের আবহে এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই কমিশনারের আপত্তি সংক্রান্ত খবরও। SIR নিয়ে দুই কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে জ্ঞানেশ কুমার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ইস্যুতে এবার প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বললেন, “আজ সংবাদপত্রে যা পড়লাম, তা আইন লঙ্ঘনের এক অত্যন্ত গুরুতর ও বিস্ফোরক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৯৩ সালে বহু-সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত হওয়া বাঞ্ছনীয় ; আর তা সম্ভব না হলে অন্তত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে তা নেওয়া উচিত। কমিশনের তিনজন সদস্যেরই সমান অধিকার রয়েছে। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতকারী যে কোনও দু’জন সদস্যের মতামতই চূড়ান্ত বলে গণ্য হতে হবে- তাঁরা দু’জন নির্বাচন কমিশনার হোন কিংবা একজন কমিশনার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার।”
#WATCH | Gurugram, Haryana: Former Chief Election Commissioner SY Quraishi reacts to Indian Express report on 2 ECs objecting to discrepancies in SIR process
He says, “What I read in the newspaper today reveals a very serious and explosive situation regarding the blatant… pic.twitter.com/MY0kEw9Rl9
— ANI (@ANI) September 23, 2026
তাঁর সংযোজন, “বর্তমান ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, উভয় নির্বাচন কমিশনারই বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলছিলেন এবং বিরোধিতা করছিলেন, অথচ তাঁদের আস্থায় নেওয়া হয়নি। আমি এমনকী জেনেছি যে, কোনও কোনও সময় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক টানা চার মাস পর্যন্ত হয়নি… সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে তা বেআইনি বলে গণ্য হয় ; এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অপরিহার্য। গত দেড় বছরে গৃহীত সকল সিদ্ধান্তের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত, যেখানে উল্লেখ থাকবে কোন সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ছিল… আদালতের উচিত এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র তলব করা, কারণ জনগণ সত্যটা জানতে চায়।”
এদিকে ওই সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে যে, একাধিক সদস্য-বিশিষ্ট কোনও সাংবিধানিক সংস্থায় ‘অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য’ বজায় রাখা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।