কলকাতা: চোরবাগান ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। কোনওরকম দুর্ঘটনার কবলে পড়া বা ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া দর্শনার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা করতে সমস্ত বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, সমস্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আধিকারিকদের ছুটিও বাতিল করেছিল স্বাস্থ্যভবন। এবার আরও বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বাস্থ্য দফতর। এবার থেকে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পুজোয় টানা ছুটি বন্ধ, জানিয়ে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। 

চোরবাগান ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স, রক্ত ও অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত করতে বড় নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এই নির্দেশ অমান্য করলে সাসপেনশনের মুখেও পড়তে হতে পারে বলে জানানো হয়। এবার আগত উৎসবগুলো এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা জোরদার করতে ফের বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, পুজোর সময় টানা ছুটি পুরোপুরি বন্ধ। আগামী বছর থেকে পুজোর ৪ দিন স্পেশাল রোস্টার তৈরি হবে। ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি কালচার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চলবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। 

কীভাবে ছুটি পাবেন ? কী জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ?

আগামী বছর দুর্গাপুজোয় আর টানা ছুটি পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত যে ছুটি পেতেন ডাক্তার, শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, থেকে বাকি কর্মচারীরা, তাঁরা আর পাবেন না ছুটি। শুক্রবার এমনই ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমাদের এই দফতরকে জরুরি পরিষেবা দিতে হয়। আমাদেরও দায় হয় যে বাকি দফতরের মত, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়াটা বন্ধ হোক। এখন থেকে, আজকের থেকে বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। ১৯৪৭ সালের পর থেকে হাসপাতালের ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল। এখন বন্ধ হল। এখন থেকে হাসপাতালে স্পেশাল রোস্টার।”

তিনি আরও বলেন যে, ”পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। সেখানে স্টাফ স্ট্রেংথ হাফ রাখা হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের কোনও রস্টার হবে না। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *