কলকাতা: এই প্রথম নয়, এর আগেও বিগ বস বাংলার (Big Boss Bangla) বাড়িতে একাধিক কাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চূড়ান্ত কটাক্ষের মুখে পড়েছেন, নন্দিনী দত্ত (Nandini Dutta)। একটি টাস্কের মধ্যে সৃজলা গুহর দুর্ঘটনার জন্য নন্দিনীকে দায়ী করেছিলেন হাউজমেট থেকে শুরু করে, সমস্ত দর্শকরাই। দুর্ঘটনার কারণে বিগ বসের বাড়ি থেকে সাময়িকভাবে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল সৃজলাকে, চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সৃজলা মূল হাউজে ফিরে আসলেও, নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমেনি। কাজের সূত্রে কথা হলেও, সৃজলা আর নন্দিনী যে একে অপরকে পছন্দ করেন না, সেই বিষয়টা দর্শকরাও স্পষ্টই বুঝতে পারেন। তবে সৃজলা আহত হওয়ায়, বারে বারে ক্যামেরার সামনে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন নন্দিনী। এমনটি বাড়িতে চিঠি লেখার টাস্কের সময়ও তিনি নিজের বাবা-মাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন সৃজলার বাবা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে, নন্দিনীর এই কাজের জন্য ক্ষমা চান। তবে এবার, রাজবীরের সঙ্গে তাঁর ব্যবহারের কারণে, ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের মুখে পড়লেন নন্দিনী।

কী হয়েছে রাজবীর আর নন্দিনীর মধ্যে? কী থেকে সমস্যার সূত্রপাত?

সম্প্রতি বিগ বস বাংলার একটি টাস্ককে কেন্দ্র করেই রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যে তুমুল ঝামেলার সূত্রপাত হয়। ভ্যাম্পায়ার ও মানুষের লাক্সারি বাজেট টাস্কের পর সৃজলার সঙ্গে নন্দিনীর বিবাদ তৈরি হয়। সেই ঘটনায় রাজবীর কেন তাঁর পক্ষ নিয়ে সৃজলার বিরুদ্ধে সরব হননি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নন্দিনী। আর সেই রাগ থেকেই রাজবীরের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। উত্তেজনার বশে নন্দিনী রাজবীরকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও একসময় ধৈর্য হারান রাজবীর। নিজেকে বাঁচাতে নন্দিনীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন তিনি। এরপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ফের রাজবীরের দিকে এগিয়ে যান নন্দিনী। তখন আবারও তাঁকে সরিয়ে দেন রাজবীর। আর এরপরেই রাগ ও উত্তেজনায় নিজেকেই চড় মারতে শুরু করেন রাজবীর। একের পর এক চড় নিজের গালে মারতে থাকেন তিনি। নন্দিনীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর গায়ে যেন আর হাত না তোলা হয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজেকেই আঘাত করতে থাকবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে উঠে চলে যান রাজবীর।

নন্দিনীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ, সামিল টলিউডও

বিগ বসের এই পর্ব সম্প্রচার হতেই, আপামর নেটিজেনরা নন্দিনীকে বিঁধেছেন, ‘টক্সিক’ বলে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, এই ধরণের মানসিকতা টিভির পর্দায় যদি দেখানো হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা ছড়িয়ে পড়বে। এই ধরণের মানসিকতা অসুস্থ এবং ক্ষতিকারক। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটপ্রভাবী প্রেরণা দাস লিখেছেন, ‘বিগ বস বাংলায় যে শারীরিক হেনস্থা দেখানো হচ্ছে.. সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলছেন না কেন? ভাই.. এটাকে সমতা বলে না। এটা কোনো ছেলে করলে, এতক্ষণ জেলে থাকত। কী অদ্ভুত নেতিবাচক মানুষজন!’ অন্যদিকে অভিনেতা ভিভান ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আজ বিগ বস দেখে খুব হতাশ হলাম। একটি মেয়ে কতটা টক্সিক হলে এমন হতে পারে, সেটাই ভাবলাম। আর্থিকভাবে কেউ ভাল জায়গায় থাকলেই.. সে ভাল পরিবার থেকে এসেছে, এমনটা বলা যায় না।’ অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বং গাই’ থেকে শুরু করে অভিনেতা সত্য়ম ভট্টাচার্য.. প্রত্যেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘দাদার দরবারে’ এই কাজের জন্য কী নন্দিনীকে কোনও শাস্তি পেতে হবে? উত্তর দেবে সময়।

 

আরও পড়ুন:Rajveer-Nandini: নন্দিনী বিগ বস হাউজে ফিরে আসায় বিরক্ত রাজবীর? হারিয়ে ফেলেছেন N-লেখা আংটিও!

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *