সমীরণ পাল, শিবাশিস মৌলিক, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশকাণ্ডে ফের আন্দোলনে ‘INDI’ জোট । ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘INDI’ জোটের কর্মসূচি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পোস্ট করে জানিয়েছেন, “আমাদের ভোট চুরি করা হচ্ছে, আমরা এটা চুপচাপ সহ্য করব না। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছে। নিয়মকানুন ভাঙা হয়েছে, আর যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। ১ নভেম্বর, চলুন দিল্লিতে যাই, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, গণপদযাত্রা ও মেগা র্যালি। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, যুবক ও ব্যবসায়ী, গণতন্ত্রের প্রতি যত্নশীল প্রত্যেককে অবশ্যই আসতে হবে , ভোট আপনার, লড়াইও আপনার”, দাবি রাহুলের।
ভোট চুরির অভিযোগ ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় কর্মসূচি রয়েছে বিরোধীদের। ওই দিন সবাইকে সমাজের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান জানালেন রাহুল গান্ধী। যা নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। এরই মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।ভোট চুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিগত কয়েক দিন ধরেই একজোট হয়েছে বিরোধীরা।
INDI জোটের বৈঠক হয়েছে, পথে নেমেছেন, আন্দোলন করেছেন, আটক হয়েছেন। এবার ভোট চুরির অভিযোগে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে জনসভার ডাক দিয়েছে বিরোধীদের INDI জোট৷ সেখানে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,’আমাদের ভোট চুরি করা হচ্ছে, আমরা কোনওভাবেই চুপচাপ সেটা মেনে নেব না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আইনকানুন ভাঙা হয়েছে। আর যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এবার জবাব দেবে দেশ।’
১ নভেম্বর — চলো দিল্লি। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ জনমিছিল ও মহাসমাবেশ।ছাত্র-যুব থেকে কৃষক, শ্রমিক, মহিলা ও ব্যবসায়ীরা—গণতন্ত্র নিয়ে যাঁদের চিন্তা রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে এই কর্মসূচিতে (নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে) যোগ দেওয়ার জন্য ডাক দেওয়া হচ্ছে। ভোট আপনার। লড়াইটাও আপনার।’ রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে আরও লিখেছেন,’বিজেপি এবং তাদের সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ। এই কর্মসূচির এত জোরদার প্রচার চালিয়ে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করার জন্য। আগামী ৭ দিনও এই একই উৎসাহ আর নিষ্ঠা বজায় রাখুন।’
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, নিজেকে বাঁচানোর লড়াই। দিল্লি কোনও সাধারণ গন্তব্য় নয়। সিনেমা দেখতে ডাকা হয়নি। আগামী দিনে নয়া প্রজন্ম সমস্য়ায় পড়বে। কোনও রোডম্য়াপ নেই, আপনি কোন দিশায় চলবেন? ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে বড় ধর্মীয় পুস্তক হল ভারতের সংবিধান। সেই (সংবিধান) যখন বিপদে, তাকে (সংবিধান) রক্ষা করতে সংবিধান বাঁচানো দরকার। দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে নির্বাচন কমিশন। সেই সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করতে দিল্লি যেতে হবে।’
এদিকে দীপাবলির আগে বিরোধীরা আন্দোলনের ডাক দেওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। যার প্রেক্ষিতে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি লিখেছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি৷ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন,’ ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বড় মিছিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু ব্য়বসায়ী স্মারকলিপি দিয়েছে। আমাদের দল ও জোট দলের সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করব। এরপর আগামীকাল (সোমবার) এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’এই মুহূর্তে সংসদের অধিবেশন নেই। তবে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে চলতি মাসের শেষে মক পার্লামেন্টের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হবে বলে সূত্রের খবর।
তবে এসবের মধ্যেই বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। রবিবার বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত শ্রীকৃষ্ণ সিন্হার ১৩৯তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর বাবার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ভোটচুরি করেই এরা (বিজেপি) সরকার চুরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার, সেই সরকার চুরির (ভোট) সরকার। হরিয়ানার সরকার চুরির (ভোট) সরকার। বিহারের সরকার চুরির (ভোট ) সরকার। মহারাষ্ট্রের সরকার চুরির (ভোট) সরকার। সব রাজ্য়েই চুরির (ভোট) সরকার। এমন চোরদের (ভোট) আপনারা ছেড়ে দেবেন? এই চোরদের (ভোট) শিক্ষা দিতে হবে। যে চুরি করে, তাঁদের শিক্ষা দেওয়া হয় কি না? এদের জেলে পাঠানোর কাজ আমরা করব। মোদির বাবাও যাবেন (জেলে)।
কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,এই প্রথমবার নয়, যে কংগ্রেস মোদি বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা কখনও তাঁর শ্রদ্ধেয় মাকে নিয়ে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেছে, কখনও তাঁকে ‘মৃত্যুর সওদাগর’ বলেছে এবং কখনও তাঁকে ‘চা বিক্রেতা’ বলে তাঁর দারিদ্র্যকে উপহাস করেছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রতিদিন অশালীনতার সীমা অতিক্রম করছে।যখনই তারা মোদি বা তাঁর পরিবার সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেছে, জনগণ কংগ্রেসকে যোগ্য জবাব দিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী অন্নপূর্ণা দেবী বলেন,দেশের মানুষ ভালই জানেন যে তিনি (মল্লিকার্জু খাড়গে) যে দলের সদস্য়, সেই দলের (কংগ্রেস) সংস্কৃতিই গালিগালাজ করা।’ পাটনার অনুষ্ঠানে মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যের বিরোধিতা করায়, একজনকে সভাস্থলেই মারধর করেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা।