সোমনাথ মিত্র, আবির দত্ত ও জয়ন্ত পাল, কলকাতা: রাতের অন্ধকারে সমবায় ব্যাঙ্ক খুলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করছেন সম্পাদক।এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে হুলস্থুল হুগলির সিঙ্গুরে। গোবিন্দপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমবায়ের সম্পাদক ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম, কাজি তোসাদ্দেক হোসেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, শনিবার রাত দশটা নাগাদ, সমবায় ব্য়াঙ্কে ঢোকেন ওই ব্যক্তি।খবর পেয়ে এলাকায় জড়ো হন বহু মানুষ।অভিযুক্তকে বের করে এনে শুরু হয় বিক্ষোভ। ওঠে চোর চোর স্লোগান। ‘চোর চোর চোর চোর, TMC-র বড় চোর যাচ্ছে, TMC-র বড় চোর।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে নাম জড়ায় সম্পাদক সহ চার জনের।পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ তারিখ বৈঠকে ডেকে চূড়ান্ত অপমান করা হয় সত্যজিৎকে। বঞ্চিত করা হয় অবসরকালীন প্রাপ্য থেকে। পরিবারের দাবি, তার জেরেই আত্মঘাতী হন অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার।সিঙ্গুর থানায় অভিযোগ জানান মৃতের স্ত্রী। বিজেপির অভিয়োগ, সেই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করতেই রাতে সমবায় ব্য়াঙ্কে গেছিলেন সম্পাদক।
সিঙ্গুর বিধানসভা বিজেপি যুব মোর্চা আহ্বায়ক পীযূষ চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, গত ১৩ তারিখে একটা মিটিং হয় ওখানে। বিভিন্ন হিসেব নিয়ে মিটিং হয়। এবং সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা হয়। আমাদের স্থানীয় মানুষ বা আমাদের অনুমান, সেই সমস্ত ফুটেজ ডিলিট করতে বা লোপাট করতে ওঁরা রাতে ওখানে গিয়েছিলেন। আমরা চাইছি, বর্তমান কমিটি আছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক, সঠিক তদন্ত হোক।’ যদিও সমবায় ব্য়াঙ্কের অভিযুক্ত সম্পাদক কাজি তোসাদ্দেক হোসেনের দাবি, সিসি ক্যামেরা খারাপ ছিল, তা মেরামতির জন্যই তিনি রাতে সমবায়ে গিয়েছিলেন।
সিঙ্গুর গোবিন্দপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড সম্পাদক কাজি তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, কথাটা আমাকে বলতে দিচ্ছে না তো, সিসি ক্যামেরাটা খারাপ। মিস্ত্রিকে পাওয়া যায়নি। আমি বললাম, রাতের দিকে কিছু যদি একটা ঘটে, বলবে, তোমার সিসি ক্যামেরাটাই খারাপ? সিসি ক্যামেরাটা যেন ওকে থাকে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক ধারায় ধৃত সমবায় সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে, তোলাবাজি মামলায় বাগুইআটি থানার জালে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের ভাই।
ধৃত নাজির হোসেন মণ্ডল রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মাস চারেক আগে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় নাজিরের দাদা, বিধাননগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলর আজিজুল হোসেন মণ্ডলকে। এবার পুলিশের জালে তাঁর ভাই।