শিবাশিস মৌলিক ও সমীরণ পাল, জয়ন্ত পাল, কলকাতা: দলে বেনোজল ঢোকা আটকাতে দলীয় নেতৃত্ব এবং পদাধিকারীদের নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২ দিনের বঙ্গ সফরে এসে এদিন নিউটাউনে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। সোমবার যোগ দেবেন যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ‘যুব ভারত সংলাপ’ কর্মসূচিতে।বিজেপির যেন তৃণমূলীকরণ না হয়।
আরও পড়ুন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস, আগুন লাগিয়ে দিল বিক্ষোভকারীরা
সূত্রের খবর, রাজ্যে এসে দলের নেতা-কর্মীদের এই বার্তাই দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। নিউটাউনের বৈঠকে নিতিন নবীন বলেন, দেখতে হবে, দলবিরোধী বা দলের নীতিবিরোধী লোকজন যেন বিজেপিতে ঢুকে না পড়ে। সূত্রের খবর, বাড়তি সতর্ক থেকে তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করারও নির্দেশ দেন তিনি। রাহুল সিন্হা, রাজ্যসভার সাংসদ, বিজেপি নিয়ম মেনে ঢুকলে ঢুকবে। এদের এখন কোনও এন্ট্রি নেই। স্বঘোষিত বিজেপির কোনও জায়গা নেই।পালাবদলের পর রবিবার প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন নিতিন নবীন। সামনেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। পুজোর পর হবে পুরভোট। গত মাসেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করেছেন নিতিন নবীন। শুক্রবারই রাজ্য বিজেপিকে ঢেলে সাজিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার ২ দিনের বঙ্গ সফরে এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় দল, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে করলেন বৈঠক।সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশ্য়ে এসেছে। সে বিষয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক থেকে নম্রভাবে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন নিতিন নবীন।বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পেরেছি, আল অল্প যা বাকি আছে, তা কবে পূরণ হবে, সেটাই খতিয়ে দেখতে এসেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। মন্ত্রীদের কাছে দলের লোকেরা যেন, সুপারিশ নিয়ে সর্বক্ষণ না যায়। সরকার সরকারের মতো চলবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এদিন নতুন রাজ্য কমিটির সামনে পুরভোটের গাইডলাইনও বেঁধে দেন সর্বভারতীয় সভাপতি।তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারের ভূমিকা বা তার কার্যকলাপের উপর নির্ভরশীল না থেকে নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করতে হবে।’এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ সহ নেতা-নেত্রীরা। বিমানবন্দর থেকে যান নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ শোনেন।
এদিন নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে চারটি বৈঠক করেন নিতিন নবীন। রাজ্যের সাংগঠনিক হাল হকিকত বুঝে নিতে প্রথম বৈঠক করেন নব নির্বাচিত মোর্চা সভাপতি, নব নিযুক্ত মুখপাত্র, রাজ্য বিজেপির পদাধিকারী ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে। পরবর্তী বৈঠক করেন বঙ্গ বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা বিধায়কদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, বেশ কিছু বিধায়কদের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কর্মপদ্ধতি, কর্মদক্ষতা এবং কাজের গণ্ডি বুঝিয়ে একাধিক বার্তা দেন নিতিন নবীন। বিকেলে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
সূত্রের খবর, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর আচরণে বেগ পেতে হয়েছে দলকে।এদিনের বৈঠকে, মন্ত্রীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও নির্দেশিকা দেন নিতিন নবীন। সন্ধ্যায় রাজারহাটের পাঁচতারা হোটেলে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সোমবার যুব মোর্চার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ‘যুব ভারত সংলাপ’ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে রাজ্যের যুব সমাজ তথা জেন জি-দের মন বুঝতে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন নিতিন নবীন।