বিটন চক্রবর্তী, পার্থপ্রতিম ঘোষ, নন্দীগ্রাম : নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পুলিশ। গতকাল চণ্ডীপুর থানার পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছিলেন সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। তিনি প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করার পরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে তাঁরা নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। এরপরই গ্রেফতার হন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান। পুলিশ জানিয়েছে, নন্দীগ্রাম থানায় ৪টি জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে এই কংগ্রেস নেতাকে। ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে প্রায় ১৯ বছর ফেরার ছিলেন ধৃত মিলন প্রধান। মামলাগুলির চার্জশিটেও তাঁকে ফেরার হিসেবে দেখানো হয়েছে। অতীতে একাধিকবার ওয়ারেন্ট কার্যকর করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। তবে এবার আর ব্যর্থ হয়নি পুলিশ। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া মিলন প্রধানকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভোটের সময় পুরনো ওয়ারেন্ট কার্যকর করার নির্দেশ থাকে নির্বাচন কমিশনের। আর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ীই গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধানকে।
‘সব নকল লোক পাশে বসিয়ে রাজনীতি করেছেন, চোখ নয় কান দিয়ে দেখতেন’, ফের সরব নন্দীগ্রামের আবু তাহের
গ্রেফতার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে আজ শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর পেশ করা হয় আদালতে। গতকাল চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তাঁকে গ্রেফতার করে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এই মিলন প্রধান। খুন, খুনের চেষ্টা, জোড়া অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত ছিলেন এবারের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল, দাবি পুলিশের। ‘ভোটের আগে পুরনো মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়’, পরোয়ানা থাকায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, দাবি পুলিশের।
গতকাল পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বিকেলে চণ্ডীপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন। চণ্ডীপুর থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে প্রার্থীকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয় শুভাশিস ভট্টাচার্যকে। এরপরে মিলন প্রধান কোথায় ছিলেন সেই বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ কিছু জানা যায়নি। প্রার্থীর গ্রেফতারির খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানায় যান প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়- সহ একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে মিলন প্রধানের খোঁজ না মেলায় চণ্ডীপুর থানায় যান তাঁরা। গভীর রাতে চণ্ডীপুরে পৌঁছন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। উপনির্বাচনের আগে ভয় পেয়ে বিজেপি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে ১টি খুনের, ১টি খুনের চেষ্টা ও ২টি অস্ত্র আইনে মামলায় অভিযুক্ত মিলন প্রধান। তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। জেলা পুলিশের দাবি, ভোটের আগে পুরনো মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর সঙ্গে তাঁর উপনির্বাচনে লড়াইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই।