চোপড়া : এই ঘটনাকে বীভৎস বললেও কম বলা হয়। হোম-স্টে-কে বার-বি-কিউ-র আগুনে ঝলসে যান নববিবাহিত মহিলা। পুড়ে যায় শরীরের ষাট শতাংশ। ঘটনায় সরাসরি হোম-স্টে কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন মহিলার স্বামী। অভিযোগ, শুরু থেকেই নানারকম অব্যবস্থার শিকার তাঁরা। দুর্ঘটনা ঘটার পরও কোনও হেলদোল দেখা যায়নি তাঁদের মধ্যে। এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করল দার্জিলিং পুলিশ । গ্রেফতার করা হল চার জনকে। পুলিশের জালে হোম স্টে-র মালিক, মালিকের ছেলে, ম্যানেজার ও এক কর্মী । ধৃতদের ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দার্জিলিঙের সিটংয়ের হোম স্টে-তে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন চোপড়ার দম্পতি । সন্ধেবেলা বার-বি-কিউ এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় সেখানকার এক কর্মীই আগুনে দাহ্য তরল ঢেলে দেন। তারপরই আগুন আচমকা অনেকটা বেড়ে যায়। আগুনের গোলা ছিটকে যায় পাশে বসা মহিলার দিকে। তার সারা গায়ে আগুন লেগে যায়। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন তিনি। সিসিটিভিতে ধরা পড়ে পুরো ঘটনাই।
আহত স্বামীর অভিযোগ, তাঁদের কোনওরকম সাহায্যই করেনি রিসর্ট কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে গাড়ি ছিল না। সেটাও জোগাড় করতে সাহায্য করেনি তারা। দগ্ধ অবস্থায় মহিলাকে পড়ে থাকতে হয় ২ ঘণ্টা। এরপর কোনওক্রমে একটি গাড়ি জোগাড় করে সমতলে নামেন তাঁরা। সঙ্গে রিসর্টের কোনও কর্মচারিও আসেননি। পুরো ঘটনাতেই রিসর্ট কর্মীদের গা-ফিলতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন দগ্ধ স্বামী।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা সৌভিক দাস তাঁর স্ত্রী নিকিতা দাসকে নিয়ে সিটংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মাত্র দু’মাস আগেই বিয়ে হয়েছে। পাহাড়ি পরিবেশে কয়েকটি দিন নিজেদের মতো করে কাটাতা চেয়েছিলেন। বেছে নিয়েছিলেন জনপ্রিয় এক রিসর্টকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে এতবড় বিপদ হয়ে যাবে ভাবেননি। এই ঘটনায় স্থানীয়দের অনেকেও হোম-স্টে কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভাবের অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, বার- বি – কিউয়ের আগুনে কী তরল ঢালা হল, কেনই বা ঢালা হল। এমন দাহ্য তরল কেন হাতের কাছে রাখা ছিল। কেনই বা ওই ব্যক্তি আগুনে ওই তরল ঢেলে দিলেন, উঠছে প্রশ্ন। তদন্ত করবে পুলিশ। তবে এমন বীভৎস ভিডিও দেখে আতঙ্কিত পর্যটকরা।