সন্দীপ সরকার, বিজেন্দ্র সিংহ ও সমীরণ পাল, কলকাতা : ফের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একাই নির্বাচন লড়ে কলকাতা কর্পোরেশন এবং হাওড়া কর্পোরেশন দখল করতে সক্ষম’। কিন্তু, এরপরও বিজেপির সঙ্গে জোটের মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে NCPI. শমীক ভট্টাচার্যের বার্তার পরও কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলছেন, একসঙ্গে লড়লে অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। এনিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। 

প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তারপর বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লাঞ্চ। কিন্তু তারপরও কলকাতা পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতার স্বপ্ন চুরমার হতে বসেছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের। সুকান্ত মজুমদার, রাহুল সিনহা, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা তো আগেই পুরসভার ভোটে একলা চলার পক্ষে সওয়াল করে অবস্থান কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এবার খোদ বিজেপির রাজ্য় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যা বললেন, তাতে পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে লড়ে আসন জেতার NCPI-এর স্বপ্ন কি ভেঙেচুরে খান খান হয়ে যাওয়ার পথে আরও একধাপ এগোলো ?

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমি আমার দলের অবস্থান বলতে পারি। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নিজের শক্তিতে পদ্মফুল প্রতীক চিহ্নে কলকাতা এবং হাওড়ার মানুষের বিপুল জনসমর্থন, আশীর্বাদ নিয়ে তারা পুরসভা পরিচালনা করার দায়িত্ব নিতে চলেছে।”

কিন্তু, এরপরও বিজেপির সঙ্গে জোটের মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে NCPI। NCPI সাংসদ (বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ)কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “উনি রাজ্য সভাপতি ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিম বাংলার এবং উনি রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে ওঁর লড়াই এবং যাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে NCPI সাংসদদের লড়াই, সেই দলের বিরুদ্ধে শক্তপোক্তভাবে একসঙ্গে লড়লে নিশ্চিতভাবে লড়াই আরও জোরদার হবে।”

বুধবার বালুরঘাটে সুকান্ত মজুমদারের বাড়ি গেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বাড়িতে খেলেন। গল্প হল। সুকান্ত মজুমদার কলকাতা পুরভোটে বিজেপির ইনচার্জ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনায় পুরভোটে জোটের প্রসঙ্গ উঠেছে কি না, তা জানা না গেলেও, সুকান্ত মজুমদার কিন্তু শুরু থেকে একলা চলার অবস্থানই বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা এই রাজ্যে একাই লড়েছি এবং এতগুলো সিট পেয়েছি। স্বাভাবিকভাবে আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও শরিকি সিট শেয়ারিংয়ের বিষয়ে আলোচনা করিনি।”

বিজেপির সঙ্গে গিয়ে, NCPI-এর এই বেহাল অবস্থা দেখে বেজায় খুশি কালীঘাট-তৃণমূল। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এদের (NCPI) বেটার হচ্ছে, দিল্লিতে এখন রেখা গুপ্তর (দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রী) সঙ্গে কথা বলে পুরসভার কাউন্সিলরের সিট নেওয়া। ওরা বলছে NDA-র পার্ট, এটা এদের দাবি। আর NDA বলছে, আমাদের পার্ট নয়। পশ্চিম বাংলায় বিজেপি বলছে, এদের আমরা চিনিই না। অচ্ছুৎ এরা আমাদের কাছে। এরা না ঘর কা না ঘাট কা।” পুজোর পরই পুরভোট। পুজোয় কি শরিককে পুজোর উপহার দেবে বিজেপি, না কি মুখ ফিরিয়ে নেবে ? কী হবে সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের ভবিষ্যৎ ?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *