কলকাতা: ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। তাদের দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের দুই ঘনিষ্ঠের সংস্থাকে ৮৫ কোটি টাকা টেন্ডার পাইয়ে দেন ইন্দ্রনীল।
দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ও দীপেশ রায়ের সংস্থাকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর সেই সংস্থা থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক সংস্থায় টাকা পাঠানো হয়েছিল। টাকা তোলাও হয়েছিল সেই সব সংস্থা থেকে। শুধু তাই নয়, ED-র দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডসে’র অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা ডিপোজিট করা হয়।
সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লক্ষ টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন, রয়্যালটি বাবদ এই টাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছিল। বিবৃতি দিয়ে এমনই দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। (Indranil Sen)
UNESCO-র নাম করে দুর্গাপুজোয় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে সাড়ে ন’ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর তার পরই প্রেস বিবৃতি জারি করল ED, যাতে এই প্রথম তৃণমূলনেত্রী মমতার নাম উঠে এল। ED-র প্রেস রিলিজে যে মানিট্রেল দেখানো হয়েছে, তাতে নাম রয়েছে মমতার। বলা হয়েছে, টাকা ঢুকেছে মমতার অ্যাকাউন্টেও। ইন্দ্রনীল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে তল্লাশি এবং ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই তথ্য উঠে এসেছে বেল জানা গিয়েছে। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী এবং তাঁঁর স্ত্রীর সংস্থা ‘মাস আর্টস’ UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোয় পাস বিক্রি করে মোটা টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। সেই মামলার তদন্তেই মমতার নাম উঠে এল। (Mamata Banerjee)

ED-র দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন দুই ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি এবং দীপেশের সংস্থাকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। সেই সমস্ত সংস্থা থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের সংস্থায় টাকা যায়। পরবর্তীতে ওই সব সংস্থা থেকে নগদে টাকা তোলা হয়। পরবর্তীতে ইন্দ্রনীলের সংস্থা অক্টেভ রেকর্ডসে’র অ্যাকাউন্টে আবার নগদে ৩.৮ কোটি টাকা জমা করা হয়। এর পর ওই অক্টেভ রেকর্ডসে’র অ্যাকাউন্ট থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। সেই নিয়ে গতকাল দীর্ঘ ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইন্দ্রনীলকে। তাতে ইন্দ্রনীল জানান, অক্টেভ রেকর্ডস’ থেকে যে টাকা মমতার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তা রয়্যালটির টাকা। রয়্যালটি বাবদ ওই টাকা পেয়েছেন মমতা।