কলকাতা : দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কোনও বৈঠক বা আলোচনা হয়নি। নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন প্রত্যাহার ও রেজিনগরের রবিউল আলম চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন কুণাল ঘোষ। পরে পোস্ট ডিলিট করলেও নিজের অবস্থানেই অনড় থেকেছেন তিনি। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। মনোনয়ন পেশ করেও শুক্রবার তা প্রত্যাহার করে উপনির্বাচনের ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নন্দীগ্রামের মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক করে দেওয়া প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মত বদলান তিনি। আর এই দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে কুণাল ঘোষ লেখেন, ‘দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কোনও বৈঠক বা আলোচনা হয়নি। এখন যেভাবে দুই কেন্দ্রেই মুখ পুড়ল, তার দায়িত্ব অবশ্য সকলকেই নিতে হচ্ছে। শুধু শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপিকে দোষ দিলে হবে না। ওরা হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছে, আমরা গলা রাখলাম কেন? কেন আমরা পরিস্থিতি অনুধাবন করলাম না?’ যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই এই পোস্টটি ডিলিট করে দেন কুণাল ঘোষ।
কসবা জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ED-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর
এরপর বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক বলেছেন, ‘আমি যেটা বলেছি, পরে সেটা ডিলিট করলেও, সেটা তো বলাই। কিন্তু আমি আবার বলছি, আমি কিন্তু কোনও বক্তব্য় থেকে সরছি না। যেহেতু আমার কাছে মিডিয়া সূত্রে খবর আসে যে প্রত্য়াহার হয়েছে (রবিউল আলম চৌধুরী) তার ওপর দাঁড়িয়ে আমি একটা অ্য়ানালিসিস দিয়েছিলাম। পরে দেখেছি প্রার্থী (রবিউল আলম চৌধুরী) আছেন, প্রার্থী (রবিউল আলম চৌধুরী) লড়বেন, সেই মুহূর্তে আমি আর… অন্য় বিশ্লেষণটা এই মুহূর্তে হবে না। লড়াই হয়ে যাক, বিশ্লেষণ তো পালিয়ে যাচ্ছে না।’ এর পাল্টা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘এটা তো তাদের দলের ব্যাপার। আলোচনা হয়নি, নাকি কুণাল ঘোষকে আলোচনায় রাখা হয়নি, সেটা একটা আলাদা ব্যাপার। কুণাল ঘোষকে তো আসলে কেউ পাত্তা দেয় না। মন্দিরের ঘণ্টার মতো যে যখন পারে বাজিয়ে দিয়ে চলে যায়। কুণাল ঘোষের অবস্থাও সেটা হয়েছে। এখন উনিও মজা নিচ্ছে। বাজছেন আর মজা নিচ্ছেন।’
রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মত বদলালেও, সেই পথে হাঁটেননি নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে। সেই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘নন্দীগ্রামের সঞ্চিতা দু’মাস আগে নিজে যোগাযোগ করে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। আমি জানতাম বিষয়টা। কিন্তু আমি ওঁর নাম দিদিকে সুপারিশ করিনি কিছু কারণে। দল প্রার্থী করার আগে একবার আলোচনা হলে আমি বারণ করতাম। কারণ নন্দীগ্রাম আমাদের কিছু বিজ্ঞ লাটে তুলে দিয়েছে। কর্মীরা কষ্টে আছেন। ঘর সাজাতে সময় লাগবে। রেজিনগর অনেক কিছু শুনেছিলাম। আমি বারণ করার কেউ নই।’ কুণাল ঘোষ আরও লিখেছিলেন, দল পরাজিত, সেটা একরকম। কিন্তু তার পরেও কৌশলগত ভুলে মুখ পুড়লে কর্মীরা কষ্ট পান। ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটার ক্ষতি হয়।’