কলকাতা: পরিবহণমন্ত্রী ও নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বনাম বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর দ্বন্দ্ব সরগরম হয়ে রয়েছে ব্য়ারাকপুর। এরই মধ্য়ে এবার ব্য়ারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে সরব দলেরই একাংশ। অন্যের কথা তাদের মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে বলে পাল্টা কটাক্ষ করেন বিজেপি বিধায়ক। যদিও গোটা বিষয়ে কোনরকম মন্তব্য় করতে চাননি পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডেবরা থেকে ব্য়ারাকপুর, বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুললেন বিজেপিরই একাংশ। গত কয়েকদিন ধরে বারবার ব্য়ারাকপুরে সামনে এসেছে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ও বিজেপি বিধায়ক এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি ক্ষোভের মুখে পড়েন কৌস্তভও। গো ব্যাক, দূর হঠো শ্লোগানও ওঠে। কৌস্তভ বাগচীর সঙ্গে অর্জুন সিংহের বিবাদের অন্য়তম কারণ ছিল একটি বিতর্কিত ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ছেলের হত্যাকাণ্ডের FIR-এ নাম থাকা অন্যতম অভিযুক্ত উত্তম দাসের হাত থেকে সম্বর্ধনা নিচ্ছেন ব্যারাকপুরের নিহত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার বাবা। আর এই একই মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী ও নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। সেই নিয়ে সরব হয়েছিলেন ব্য়ারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।
এই বিতর্ক নিয়ে কৌস্তভ বাগচী বলেন, ”যেখানে মণীশ শুক্লার বাবা মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় উত্তম দাসের নাম লিখছে, প্রশান্ত চৌধুরীর নাম লিখছে, তাঁরা যদি আমাদের নেতাদের পাশে বসে ছবি তোলে, এক মঞ্চে থাকে এটা দেখতে ভাল লাগে? আমাদের মুখ পোড়ে, জনগণের কাছে আমরা ছোট হই।” আর তারপর থেকে বিজেপির দুই শিবিরের মধ্য়ে চাপানউতোর চলছে। কৌস্তভ-এর নামে একাধিক বিজেপি নেতা তোলাবাজির অভিযোগ আনেন।
কে কী অভিযোগ আনেন কৌস্তভের বিরুদ্ধে ?
ব্য়ারাকপুর বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় যাদব বলেন, ”বিধায়ক এখানকার ব্য়বসায়ীদের টাকা চাওয়া থেকে ফোন করা থেকে তোলাবাজি যেটা বলা যায়, এটা করছেন।” ”সুবোধ যাদব, যে মণীশ শুক্লার আসামী, তার সঙ্গে সম্পর্ক, জেল থেকে যোগাযোগ রাখছে বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এবং বিশাল জসওয়াল। সাংগঠনিক হিসেবে কাজ করতে পারছি না।” সঞ্জয় আরও বলেন যে, ”বিশাল জসওয়ালের চালক, ২ দিন হল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধরা পড়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেনাবেচা করছে না। কাউকে মার্ডার করার জন্য় টাকা নিয়েছে।”
বিজেপি ব্য়ারাকপুর সাংগঠনিক জেলা -এর প্রাক্তন জেলা সভাপতি অহীন্দ্রনাথ বসু বলেন, ”টাকা একটা রফা করতে গেছিলেন। আমাদের সন্দেহ বলছি, সেই রফাটা হয়নি বলে উত্তম দাস খারাপ।”
যদিও এসব নিয়ে জবাব দিতে চাননি পরিবহণ মন্ত্রী ও নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। তবে মুখ খুলেছেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তিনি বলেন, ”মানুষ সবটাই জানে। যারা এগুলো করছে। দেখবেন সিনেমায় হিরো সেজে ঠোঁট নাড়ায়। গায়ক অন্য় কেউ হয়, হিরো শুধু ঠোঁট নাড়ায়। এদের শুধুমাত্র ঠোঁট নড়ছে। অন্য় কারও বুলি ওরা আওড়াচ্ছে।”