উত্তর ২৪ পরগনা, দেগঙ্গা : দেগঙ্গায় ক্যাফেতে তোলাবাজির অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি ক্যাফের ম্য়ানেজারের। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, ক্যাফে সংলগ্ন গেস্ট হাউসে মধুচক্র চলছিল।
ফের তোলাবাজির অভিযোগ। ফের অভিযুক্ত বিজেপি। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তরুণকান্তি ঘোষকে। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার কালিয়ানি বিল লাগোয়া এলাকার একটি ক্য়াফে। সিসি ক্য়ামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ক্য়াফের ম্য়ানেজারকে ধরে টানা হ্য়াঁচড়া করা হচ্ছে। এই সময় উপস্থিত থাকতে দেখা যায় পুলিশকেও। আরেকটা সিসি ক্য়ামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ড্রয়ার খুলে টাকা বের করে নিচ্ছেন দেগঙ্গা তিন নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সম্পাদক বিকাশ দাস। অভিযোগ, তোলাবাজির টাকা না পেয়ে ক্য়াফেতে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করেন বিজেপি নেতাদের একাংশ।
তোলাবাজির প্রতিবাদ, দলীয় কর্মীদের হাতেই মার খাওয়ার অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের, এখনও গ্রেফতার শূন্য
দশমীর দিন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ অভিযোগ তোলেন, ‘Eco Cafe’-র ওপরের অংশে থাকা ‘Lake Palace’ নামক গেস্ট হাউসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মধুচক্রের কারবার। অভিযোগ, এরপর ক্য়াফেতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার পর কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয় ক্য়াফে। কয়েকদিন আগে ফের তা খোলা হয়। এরপর মঙ্গলবার ক্য়াফে সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় একটি পোস্টার। এসবের মধ্য়ে মঙ্গলবার রাতে দেগঙ্গার ক্য়াফেতে হাজির হন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কয়েকজন। ক্যাফেতে তাঁরা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
ক্যাফের ম্যানেজারের অভিযোগ, ‘হঠাৎ করে কিছু লোকজন আসল। বিজেপি নেতা আসল, তরুণকান্তি ঘোষ, ওঁর বলতে গেলে গন্ডাবাহিনী। গুন্ডাবাহিনী আসল এসে আমাদের রান্নাঘর জোর করে বন্ধ করিয়ে দিল। আমাকে মারধর করেছে। এর আগেও একবার এসেছিলেন ওঁরা। এসে ভাঙচুর করেছেন। আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে, দেগঙ্গা ৩- এর বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেছেন, ‘ওখানে মধুচক্র চলছিল, আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম, বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আজকে দেখলাম, ক্য়াফে চালানোর নাম করে পাশের জরজা খুলে সরু লাইন করে আবার যাতায়াতের ব্য়বস্থা করেছে। একই কাজ হচ্ছে। তাই আমরা সরব হয়েছিলাম। আমরা বলেছি দেগঙ্গার বুকে দেহ ব্য়বসা হবে না।’
সবচেয়ে অদ্ভুত, কোনওপক্ষই এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তোলাবাজি হোক বা ক্য়াফেতে মধুচক্র চালানো – যে পক্ষের যা অভিযোগই থাক, তা নিয়ে তো পুলিশে অভিযোগ দায়ে করার কথা। সেটাই করা হয়নি কেন? উঠছে প্রশ্ন।