কলকাতা: বেহালার সরশুনায় প্রেম করার অপরাধে প্রেমিক ও তার বাবাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হল রাস্তায়। ঘটনায় প্রেমিকার বাবা, মা ও মামাকে গ্রেফতার করেছে সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন প্রেমিকার পরিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন এলাকায়। এমনকি এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল বলেও অভিযোগ। এলাকার মানুষ আরও বলছেন, এরা সব সময় বন্দুক নিয়ে ঘুরত।
আরও পড়ুন: প্রেম করায় মিলল শাস্তি, নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হল প্রেমিক ও তার বাবাকে, অভিযুক্ত প্রেমিকার পরিবার
নির্যাতিত ছেলেটির বাবা স্পষ্ট করে বলেন, কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “ঘরে ঢোকার ওখানেই জামার কলার ধরে। তারপর ঘরের মধ্যে ঠেলে ফেলে দেয় আমাকে। কোনও কিছু জিজ্ঞাস করবে, কিছু করেনি। এবারে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসিয়েছে ৪ জনকেই। বসিয়ে এলোপাথাড়ি মারছিল। চোখে, মুখে, মাথায় যে কত লাথি, ঘুঁষি মেরেছে, কোনও হিসাব নেই। এবারে মেরে মেরে ওর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তখন আমরাও আধমরা।”
তবে, এর পরই আরও ভয়াবহ ঘটনার কথা জানালেন ওই যুবকের বাবা। তিনি বলেন, “এরপর ওদের বাড়ি থেকে বলল যে, এবার মারলে মরে যেতে পারে। তখন আর মারল না। তখন ওর মামা বলছে, তোমার কাছে ৩ টে অপশন দিচ্ছি আমি। এর মধ্যে কোনটা ঠিক করবে, করে নাও। আমি চুপ করে ছিলাম। বলছে, প্রথম অপশন হচ্ছে, মেশিন দিচ্ছি, ছেলেকে গুলি করে মারা। আমি হাত দিয়ে ধরিনি। কিন্তু ওঁর হাতে ছিল। পকেট থেকে মেশিন বের বলছে গুলি করে মারার কথা।”
তবে শুধু ওই প্রেমিকার মামা নন, ভয়াবহ কথা বলেছেন ওই প্রেমিকার মাও, এমনই জানান ছেলেটির বাবা। তিনি বলেন, “এবার মেয়েটার মা বলছে, গ্যাসেতে ছুরি রেখে দিয়েছি। ওই গরম ছুরি দিয়ে ছেলেদের ঢোকাও। আর নাহলে, উলঙ্গ হয়ে যেতে হবে। নাহলে রেপ কেস দিয়ে দেব। মানে, মেয়ের মা একরকম বলে, মামা একরকম বলে। বিভিন্ন রকমের টর্চার। আমি চিন্তা করলাম, আমি নিজে কেন মরব? ছেলেকে কেন মারব? আমি বাপ হয়েছি। আমার ছেলের জন্য, ওর বন্ধুদের জন্য এমন সহ্য করতে হয়, করে নিই। কিন্তু হত্যা করব না। বলে আমি বললাম ঠিক আছে। তখন আমাদের শরীর থেকে কাপড়চোপড় খুলে নেওয়া হয়। তারপর আমাদের রাস্তায় ছেড়ে দেয়। এবারে আশপাশের লোক ভিডিও করছে, রেকর্ডিং করছে। দেখে আমি কাঁদতে কাঁদতে চলে এলাম। আসতে আসতে দেখছি, অনেকে ভাবছে এ হয়তো পাগল হবে।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বাচ্চু বাগ, এদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। এদের মদতেই এরা সারাজীবন এই সব করেছে। যা হত, সব সময় এদের ভয় দেখিয়ে চলত। এদের দাপট ছিল। সব সময় পাড়ায় মেশিন নিয়ে ঘোরে। নতুন সরকার আসার পরও এদের দাপট কমেনি। কিছু হলেই পুলিশের সঙ্গে সেটেলমেন্ট করে নিচ্ছে। কাল রাতেও পুলিশের সঙ্গে সেটেলমেন্ট করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। মেয়েটির বাবা ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। পুলিশ ঘরে ঢুকে বলছে কেউ নেই। কিন্তু পাড়ার লোক দেখেছে, ঘরের মধ্যে লোক রয়েছে। তখন লোকজন জোর করে দরজা ভেঙে ঢোকে। দেখা যায় ঘরে মধ্যে মেয়েটির বাবা রয়েছে।”