কলকাতা: আমিষ খাওয়ার জন্য, বাংলায় এসে বাঙালিকে ভণ্ড বলে আক্রমণ করে গেছেন, মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর বাবা। আর তাই নিয়ে এবার বাগেশ্বর বাবাকে নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন, বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।

আরও পড়ুন, জামশেদপুরে খুনের মামলায় গ্রেফতার কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার

  এবিপি আনন্দ-কে কৌস্তভ বাগচী বলেন, আমরা বাঙালি। মাছে-ভাতে বাঙালি। মাংস আমাদের অত্যন্ত প্রিয়। এটার জন্য অন্য কোনও বাবার কথা শুনতে হয় না। যারা মাছ-মাংস খায়নি, আমি তাঁদেরকে কোনওভাবে ছোট করছি না। কিন্তু মাছ মাংস খেলেই সেটা অখাদ্য খাওয়া বা মাছ মাংস খেলেই যে যেকেউ পাখন্ডি হয়ে যায়, এরকম ব্যাপারটা নয়। যদি কেউ এটা বলে যে, মাছ মাংস খেলে পাখন্ডি হয়ে যেতে হয়, আমি বলব তাঁরা, নিশ্চয়ই গোলবাড়ির কষা মাংস খায়নি। যদি একবার গোলবাড়ির কষা মাংস কেউ খেয়ে ফেলে, তাহলে আর মাছ মাংস, খাবার লোকেদেরকে অন্তত পাখন্ডি বলবে না। বাংলাকে সেভাবে চেনেন না। উনি বাংলার সাথে সেভাবে সম্পৃক্ত নন। তিনি বাংলায় আরও যাতায়াত করুন। বাংলায় একটু বেশি করে, ঘুরুন, চিনুন, জানুন। দেখবেন, তখন এই গোলবাড়ির কষা মাংসের কথা শুনবেন, যখন ভাল মাছের প্রিপারেশনের কথা শুনবেন, যখন ইলিশ মাছ ভাপার কথা শুনবেন, শুনে দেখবেন যে লোক কতটা ওটা রেলিশ করে ওটা খায়।’

 

দুর্গাপুজোর সময় বাঙালি কোথায় কী খাবে, কী খাবে না, তা নিয়ে সম্প্রতি মধ্য়প্রদেশের বাগেশ্বর বাবা  বাঙালিকে আমিষ-নিরামিষ খাওয়া নিয়ে নিদান দিয়েছেন। (বাগেশ্বর ধাম, মধ্য়প্রদেশ) প্রধান সন্ত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেন,’কিছু মনে করবেন না, পশ্চিমবঙ্গের একটি বিষয় আমার ভাল লাগে না। এখানে নবরাত্রির সময় দুর্গা প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। দুর্গা প্যান্ডেলের পিছনে অথবা মঞ্চের নীচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা(অপবিত্র) খাবার তৈরি করা হয়। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়।’ (‘কালীঘাট-তৃণমূল’) মুখপাত্র অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  বিভিন্ন রেস্তোরাঁতে যে অভিযান চলছে, এবং প্রতিনিয়ত একটা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যে সেখান থেকে পচা মাংস, পচা মাছ ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে, এর পিছনে আমরা নির্দিষ্টভাবে মনে করি, যেটা RSS, বিজেপি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, বাঙালির যে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস, তার মধ্যে আমিষের যে ব্যবহার, সেটাকে কোথাও না কোথাও আঘাত করা। একটা ভয় ধরিয়ে দেওয়া। যে আমিষ খাওয়া মানেই সেখানে কোথাও পচা, কোথাও সংক্রমিত খাবার ইত্যাদি। 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *