কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : IPS, IAS-সহ পুলিশ অফিসারদের জেলে ঢোকানোর হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা-তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী সাংসদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতো দলের কর্মীদের চাপ দিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে মিথ্যে হলফনামা দিচ্ছেন রাজ্যের পুলিশ অফিসাররা। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি।
এবার সরাসরি পুলিশকেই জেলের ভাত খাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পর পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা-তৃণমূলের আরেক সাংসদ। বিতর্কের সূত্রপাত ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করে থানায় পাঠানো, আর সেই স্ট্যাম্প পেপারে রাজনৈতিক হলফনামার জন্য সই করানোর অভিযোগ ঘিরেই। সপ্তাহ দু’য়েক আগে এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে, নিয়ম না মেনে ২৫ হাজার স্ট্যাম্প পেপার বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে। সেই স্ট্যাম্প পেপার দিয়ে ঋতব্রত-তৃণমূলের হয়ে হলফনামা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাই বাজারে ১০ এবং ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই নিয়ে রাজ্য সরকার ও মমতা তৃণমূল কংগ্রেস, ২ পক্ষকে হলফনামা জমার নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এই প্রসঙ্গেই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, “হলফনামায় যে কী অবস্থা করব পুলিশ অফিসারদের, দেখে নেবেন। খেলা কাকে বলে দেখিয়ে দেব। জেলে ঢোকাব… শুভেন্দু অধিকারীর অর্ডার মেনে যাঁরা অবৈধ সমস্ত সই করিয়ে ফলস… দিয়ে, থানায় বসে বসে… কোন কোন থানায় হয়েছে… শুধু ওরা লিস্টটা দিক। কত পুলিশ অফিসার জেলে যাবে তার কোনও ঠিক নেই। চাকরি বাঁচাবেন ? না শুভেন্দু অধিকারীর অবৈধ অর্ডার সব মানবেন? সাবধান IPS, IAS… একদম সাবধান।”
এ প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “ব্যানার্জি… বিশেষ করে… কালীঘাট-তৃণমূলের ব্যানার্জি… তাঁরা মানেই হুঙ্কার-হুঁশিয়ারি, পাল্টা দেখে নেব । কিন্তু আমি তো জানতাম কল্যাণ ব্যানার্জি… ব্যানার্জি হলেও তিনি সিনিয়র ব্যানার্জি… তিনিও বলছেন সব পুলিশ অফিসারকে দেখে নেবেন, IPS-দের দেখে নেবেন ! আপনি দিবা স্বপ্ন দেখছেন। ক্ষমতায় আসবেন তারপর তো দেখে নেবেন। কিচ্ছু করতে পারবেন না, কারণ কোথাও কোনও বেআইনি কিচ্ছু নেই।”
গত সপ্তাহেই বিজেপি সরকারের পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় একই সুরে এবার পুলিশ অফিসারদের নিশানা করলেন মমতা-তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাল্টা রাজ্য বিজেপির নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কখন কী বলেন তাই বোঝেন না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০ বছর পরে যদি বেঁচে থাকেন তখন ব্যবস্থা হবে। ৫০ বছর অবধি বিজেপি সরকার এই রাজ্যে থাকবে।” পুলিশের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সুর চড়ানোর ট্র্য়াডিশন এরাজ্য়ে নতুন নয়। পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্য়বহারের অভিযোগ উঠত, এখন বিরোধী হয়ে তারাই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।