কাকদ্বীপ: ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে (Kakdwip News), সিপিএমের কর্মী দম্পতিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায়, নতুন মোড়। চার্জশিট জমা দিল SIT। 

২০১৮ সালের মে মাস, সেদিন ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের রাত। কাকদ্বীপে বাড়ির মধ্য়ে সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাস ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই মামলাতেই এবার মোড় ঘুরে গেল! রাজ্য়ে পালাবদল হতেই তৃণমূল এবং তৃণমূলের আমলের পুলিশের যাবতীয় তত্ত্ব খারিজ হয়ে গেল SIT-এর চার্জশিটে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে ২০১৩ সালে কাকদ্বীপের বুধাখালিতে জেতে সিপিএম। ২০১৮ সালে ফের পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল। নিহত দেবপ্রসাদ দাস এবং ঊষারানি দাস CPM সমর্থক ছিলেন। FIR-এ নাম থাকা অভিযুক্তরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৮ সালে যেনতেন প্রকারে ওই বুথ দখলে তাঁরা মরিয়া ছিলেন। 

সেই সময় অর্থাৎ তৃণমূল আমলে ১০ জন তৃণমূল কর্মী সমর্থকের নামে FIR দায়ের করা হলেও, পুলিশ উল্টে গ্রেফতার করে ৯জন সিপিএম কর্মীকে। FIR-এ নাম থাকা অভিযুক্তদের একজনকেও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তবে এবারের ভোটে সরকার পাল্টায়! প্রথমবার বঙ্গে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। তারপরেই ২৩ জুন, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস। 

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমাদের অভিযোগ তো দেওয়াই আছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কোনও তদন্তই করেনি। কোনও তদন্ত রিপোর্টও জমা দেয়নি। সরকার বদল হয়েছে, তাই আমরা সেই প্রত্যাশায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম। ওঁ আশ্বস্ত করলেন। আমাদের সেই বিচারগুলো দেখবেন এবং ভবিষ্যতে আমাদের যে বক্তব্যগুলো ওঁ শুনবেন।’  

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর, ভবানীভবনে যান মৃত দম্পতির ছেলে। কথা বলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে। সেই রাতেই অ্যাকশনে নামে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ বিষয়ে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর দাবি শুধু অভিযোগপত্রে ১০ জন নয়, বরং সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে যেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘যে দুই একটা জিনিস না করলেই নয়, তার মধ্যে এটা অন্তত, আপাতত তদন্ত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এই তদন্তটা হচ্ছে, বিচার পাচ্ছে। তার মানে শুধুমাত্র ১০ জন যাদের নামে FIR আছে, তারা না। যারা ষড়যন্ত্রের অংশীদার, যারা তথ্য লোপাটের অংশীদার, তারা তো শুধু স্থানীয় মানুষ না, প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা না নিলে এটা কিন্তু বোঝা যাবে একটা কায়দাবাজি করা হচ্ছে।’

পাল্টা কুণাল ঘোষের দাবি, ‘এ ধরনের কথাবার্তা বলা এগুলো সিপিএমের মুখে মানায় না। কারণ সিপিএম জমানায় যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো খুন হয়েছে, যতগুলো হত্যা হয়েছে, মানে একের পর এক খুন-ধর্ষণ-গণহত্যা, তাদের মুখে বড় বড় কথা শোভা পায় না।’ আবার রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের মতে, ‘রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে খুন করাটা এটা একটা বহমানতায় পরিণত হয়েছিল। যে এটা হতেই পারে। নিউ নর্মাল। যে ফিশফ্রাই আর কফি খেয়ে যারা দলীয় কর্মীদের জীবনকে বন্ধক রেখে দিয়েছিল তারা যে কতটা সিপে-মূল, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।’

তবে এবার কাকদ্বীপ-কাণ্ডে SIT-র চার্জশিট জমা পড়েছে। এবার দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক, চাইছে নিহতের পরিবার।   



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *