অর্ণব মুখোপাধ্যায়, আশাবুল হোসেন ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: ওয়াকফ-সম্পত্তি দখল, জলা জমি বুজিয়ে অবৈধ নির্মাণ-সহ একাধিক অভিযোগ। জাভেদ খানের বিধানসভা কেন্দ্রে অভিযান চালা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী তদন্ত কমিশন। যারা শাসনে থাকে, তারা ধোয়া তুলসী পাতা, যারা বিরোধী তারা দোষী হয়- এটাই ট্রেন্ড হয়ে গেছে, প্রতিক্রিয়া জাভেদের।

আরও পড়ুন, কলকাতা পুলিশে বড়সড় নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের, কোথায় কত শূন্যপদ ? রইল বিস্তারিত

গত মে মাসে ক্য়ামাক স্ট্রিটের সভা থেকে নাম করে, ৪ জনের সম্পত্তির কথা বলেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,আমি পুরসচিব আর কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে ৪ টে নাম বলেছিলাম। বলব ৪ টে নাম? শুনতে চান? এক, বেলেঘাটার রাজু নস্কর, ১৮টা প্রপার্টি। দুই কসবার সোনা পাপপু, ২৪টা প্রপার্টি। তৃতীয়, ভাইপো অভিষেক ব্য়ানার্জি। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি। চতুর্থ নামটা শুনতে চান? জাভেদ খানের ছেলে ৯০টা প্রপার্টি। এটা লুটেছে। এরা লুঠেরা।

এই প্রেক্ষাপটে এবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে তৈরি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশনের স্ক্যানারে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়ক জাভেদ খানের বিধানসভা এলাকা। বৃহস্পতিবার কমিশনের সদস্যরা হানা দেন, জাভেদ খানের বিধানসভা এলাকার চারটি জায়গায়। প্রথমে তাঁরা যান, তপসিয়ার একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে। কথা বলেন, কেয়ারটেকারের সঙ্গে।কমিশন সূত্রে খবর, এই বহুতলটি তৈরি করেছেন শামসের আলি নামে এক ব্যক্তি। কমিশন সূত্রে দাবি, স্থানীয় বিধায়ক ও কাউন্সিলরের নামে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল বেআইনি নির্মাণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। 
 

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশন সদস্য সচিব কে জয়রমণ বলেন, এই ওয়ার্ডগুলোতে অবৈধ নির্মাণ, জলাভূমি ছিল সেগুলো বুজিয়ে নির্মাণ হয়েছে। সেটা আমরা তদন্ত করছি। এখানকার কাউন্সিলর সাহায়্য় করেছে, ওনার সাহায্য়েই এই নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ আসে। বিধায়কের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। কসবা (গণতান্ত্রিক তৃণমূল) বিধায়ক জাভেদ খান বলেন,কোনও ওয়াকফ প্রপার্টি আমার আন্ডারে নেই, যা আছে আমার পৈতৃক সসম্পত্তি আছে। আমাদের কাছে দলিল আছে এবং মিউটেশন থেকে সব কাগজপত্র আছে। আমি আজ ৩০ বছর রাজনীতিতে আছি, আমার বিরুদ্ধে কেউ একটা অভিযোগ তোলেনি। 

কমিশনের স্ক্যানারে তপসিয়ার একটি বিশাল পার্কিং এরিয়া। পার্কিং লটের পাশেই রয়েছে জলাভূমি। এতো জলাভূমি, জলাভূমি সব। এরপর তপসিয়ার একটি ধর্মীয়স্থানে যান কমিশনের সদস্যরা।শেষে কমিশনের সদস্য়রা যান, ‘নির্মাণ কংক্রিট’ নামে একটি জায়গায়। রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র  সায়ন্তন বসু বলেন, কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, তার (জাভেদ খান) ফাইলও খোলা হবে।  ৫ বছরে ধীরে ধীরে ফাইল খুলবে সরকার। কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলে ফৈয়াজ আহমেদ খান।তিনি কলকাতা পুরসভার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। তিলজলার 47 জি জে খান রোডে পাশাপাশি দু-দুটো বিশাল বহুতল।
 
পুরসভা সূত্রে দাবি, এই বহুতল দু’টি ফৈয়াজ আহমেদ খানের। অভিযোগ, এই দুটি বিল্ডিংই তৈরি হয়েছে পুরসভার অনুমতি ছাড়া।জাভেদ খানের ছেলে ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খান বলেন,তদন্ত করতে গেলে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্ত হলেই ভাল, পরিষ্কার সব জিনিস বেরিয়ে আসবে ওয়াকফ সম্পত্তি যেরকম ছিল সেরকমই আছে।’ মমতা-তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, শুভেন্দু তৃণমূলের কাউকে কিন্তু অ্যারেস্ট করা হচ্ছে না বা এগোচ্ছে না, শুভেন্দু তৃণমূলের। অরূপ রায়, ED কেস, চেপে যাচ্ছে। ববি হাকিম, কিছুই হচ্ছে না।  জাভেদ খান, অত অবৈধ নির্মাণ করেছে। কই হচ্ছে না তো! কিছুই হচ্ছে না।সব মিলিয়ে কসবা বিধানসভা এলাকায় অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *