কলকাতা: গভীর রাত থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং উত্তেজনা। RSS এর ছাত্র সংগঠন ABVP বনাম সিপিএমের ছাত্র সংগঠন SFI-এর সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। FETSU-র তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল বডি মিটিং ঘিরে রাতে অশান্তি শুরু হয়েছিল। সকাল হতে অশান্তি চলে এল রাস্তায়। আর তা নিয়েই দিনভর তপ্ত রইল রাজনীতি। একদিকে, যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ‘তাণ্ডব’ চালানোর কথা বলতে শোনা গেল, অন্য দিকে, ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি ‘দেশবিরোধী’ ছাত্রছাত্রীদের ‘বাংলা ধোলাই’য়ের নিদান দিলেন। (Koustav Bagchi)
গতকাল রাত থেকে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মারধর, ভাঙচুর, আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সেখানে। কেপিসি হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে শর্বরীকে বলতে শোনা যায়, “কী কের জিবি ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে জিবি? কারা ডেকেছে? ভিসি কোথায়? কেন আসেননি এখনও? কী ভেবেছেন, বিশ্ববিদ্য়ালয়কে নকশাল, দেশবিরোধী শক্তি, নাওবাদীদের দিয়ে ভর্তি করে রাখবেন? এটা চলবে না…যে যেখানে লুকিয়ে আছে, টেনে বের করব। সারারাত তাণ্ডব চলবে আজ।” এমনকি যাদবপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয় ABVP-র তরফে। (Jadavpur University Tension)
শর্বরীর ওই মন্তব্যের পর আজ সকাল থেকেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। গোলপার্ক থেকে মিছিল বের হয় ABVP-র। 8B বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত করে SFI-সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় সেখানেও। ভাঙা হয় পুলিশের ব্যারিকেড। যাদবপুরের এমব্লেম ভেঙে দেওয়া হয়। রাস্তায় বসে পড়ে দুই পক্ষই। আর সেই আবহেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন কৌস্তভ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তিনি ‘বাংলা ধোলাই’ দেওয়ার নিদান দেন।
এদিন এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে কৌস্তভ বলেন, “দেখুন যাদবপুর দিনের পর দিন, দীর্ঘ দিন ধরে…একথা বলছি না যে, যাদবপুরের সমস্ত ছাত্রছাত্রীরাই দেশবিরোধী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বা সম্পৃক্ত। কিন্তু একটা অংশের ছাত্রাছাত্রী আছেন, তাঁদের মধ্যে মারাত্মক ভাবে দেশবিরোধী চিন্তাভাবনা রয়েছে। যারা দেশের বিরুদ্ধে কথা বলবে, যারা দেশের বিরুদ্ধাচারণ করবে, একদম বাংলা ধোলাই যাকে বলে, সেই বাংলা ধোলাই দেওয়া হবে বলে আমার অন্তত মনে হয় এটা করা উচিত। যারা করবে তাদের আমি সাধুবাদ জানাব। তাদের পুরস্কত করব আমি।”
আরও পড়ুন: Mohan Bhagwat US Visit: এবার RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি আমেরিকায়, মোহন ভাগবতের সফরের ঠিক আগে
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য যদিও কৌস্তভের থেকে একেবারে আলাদা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এবিভিপি বিজেপি-র শাখা সংগঠন নয়। তারা একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন জাতীয়তাবাদী সংগঠন। তারা নিজেরাই অবস্থান বা সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে দলের কিছু বলার নেই। ক্যাম্পাসের ভিতর ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপি-র লক্ষ্য় নয়।” কিন্তু শমীক একথা বললেও, বহিরাগতদের কে ঢোকাল ক্যাম্পাসে, প্রশ্ন তুলেছেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তাঁর কথায়, “ইউনিভার্সিটির মধ্যে যারা অরবিন্দ ভবনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে, তারা তো ভূত নয়? শুভেন্দু অধিকারী গুন্ডা দমন আইন বললেন। এখানে চোখের সামনে অডিও-ভিস্যুয়াল প্রমাণ রয়েছে। কারা, বহিরাগতরা ভিতরে ঢুকলেন, কী কী করার চেষ্টা করলেন, তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করছে না কেন রাজ্য? গুন্ডাদমন আইন তো গুন্ডাদের জন্য?” পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার, পুলিশ কেন পদক্ষেপ করল না, প্রশ্ন তোলেন তিনি।