মুর্শিদাবাদ: রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দিল্লির দ্বারস্থ হতেও পিছ পা হবেন না তিনি। সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করলেন, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। হোমগ্রাউন্ডে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হুময়ুন কবীর। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই উপনির্বাচনের প্রচারে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী, আশ্বাস দেন – নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো রেজিনগরকেও নিজের বিধানসভা এলাকা হিসেবে দেখবেন। পাশাপাশি, রেজিনগরকে গড়ে তুলবেন ‘মডেল বিধানসভা’ হিসেবে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আপনার (অমিত শাহ) মুখ্যমন্ত্রী বলেছিল, জিতলে মডেল বিধানসভা করে দেব, জেতেননি, আমরা জিতেছি। আমরা আত্মসমর্ণ করছি আপনার পায়ে, আপনি আমাদের রেজিনগরটা মডেল বিধানসভা করে দিন মানুষের স্বার্থে। রেজিনগরের মানুষকে বলব, ভাই তোমরা আমাদের জিতিয়েছ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো এত তারিখে এসে বলে গিয়েছিল যে, ১ অক্টোবর, ৯ অক্টোবর তোমরা তাঁর কথায় গুরুত্ব দিলে না, ৬ অক্টোবর গুরুত্ব দিলে না। আমাদেরকে যেহেতু জিতিয়েছ, ৮টা বিধানসভা যখন মডেল বিধানসভা হয়ে যাবে, সেই বিধানসভা মডেল হওয়ার আগেই দিল্লিতে প্লেন ধরে একেবারে গিয়ে সরাসরি নিতিন নবীন স্যরের পায়ে গিয়ে পড়ে যাব।’
নন্দীগ্রামের মতো, রেজিনগরেও লড়াই করছে তৃণমূলের দুই শিবির। হুমায়ুন কবীরেরের দিল্লির দারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাকে কটাক্ষ করেছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে, ‘দিল্লিতে গিয়ে সারেন্ডার’ পরিকল্পনায় অন্যরকম ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও হুমায়ুনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, ‘বলুন, ভাগীরথীতে ডুব দেবেন। ভাগীরথিতে উনি ঝাঁপ দেবেন বলুন। ওঁকে বিজেপির পদ্মতে আসতে হবে না। পদ্মের পাঁকে ডুব দিয়ে ওঁকে হাবুডুবু খেতে বলুন। বিজেপিতে ওঁকে নেবে না। উনি চাইছেন, আমার মুখে ওঁর নাম বলে আমি ওঁকে হাইপ দিই। পচা শামুকের ওপর আমি পা দিই না। উনি এখন অচল পয়সায় রূপান্তরিত হয়েছেন। বাঁশি তো হারিয়ে ফেলেছে। ওকে ভোট দেবে কে?’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম বার জয়ী হন হুমায়ুন কবীর। ২০১২ সালে ২০ নভেম্বর দলের তৎকালীন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০১৮ সালে ফের দলবদল করেন। দিল্লি গিয়ে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হন মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে। কিন্তু জিততে পারেননি। ২০২০ সালে বিজেপি ছেড়ে দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ফিরে যান হুমায়ুন। ২০২৫-এ দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস। চলতি বছরেই গঠন করেন নিজের দল। রেজিনগরের সঙ্গে নওদা দু’টি আসনেই এবারের বিধানসভা আসনে লড়াই করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ২টি আসনেই জয়লাভ করেন। পরে নওদা রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন হুমায়ুন কবীর। সেই কারণে এবার এই আসনে ভোট। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৬৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন রেজিনগরে। মানুষের রায় কোন দিকে যায়, জানা যাবে ৯ অক্টোবর।