চোপড়া : এবার ঋতব্রত-শিবিরের পাশ থেকে সরে এলেন চোপড়ার বিধায়ক। “আমরা কালীঘাট…মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি। ওঁর প্রতীকেই জিতেছি। আমরা ওঁকে দলনেত্রী মনে করে চলেছি। দলের হাইকম্যান্ড উনি”, এমনই মন্তব্য করলেন বিধায়ক হামিদুল রহমান। পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তুললেন অভিযোগও।

চোপড়ার বিধায়ক বলেন, “আগের দলনেতা যাকে আমরা সই করেছিলাম…শোভনদেবকে…ওঁর কয়েকটা জাল সই ধরেছিল না কি সই ধরেছিল…এটা নিয়ে হাইকোর্ট কেস করে আটকে দিয়েছিল। তা আমরা বিধায়করা কোথাই বসব…কোথাই বসব…বিরোধী দলের অফিসটার জন্য, তখন এমএলএ-রা সবাই বসে ঋতব্রতদা-কে করে দিয়েছিলেন। আমরাও সই করেছিলাম। এতে অনেকেই নানারকম কথা বলছেন। ঋতব্রতর দল…এর দল… । যেদিন আমরা সই করি সেদিন কোনও কথা হয়নি যে, আলাদা দল করবে। ও বলেছিল যে দিদির দলেই থাকব। আমাদের চাবিটা নিতে হবে…অফিসঘরটার। এই নিয়ে সই করা হয়েছে। মাঝখানে আমার শরীরও খারাপ ছিল। আমি একটু বসেই ছিলাম। এদিকে বিরোধীরা নানা গুজব রটাচ্ছিল। আজ আমাদের অঞ্চল কমিটির মিটিং ডেকেছিল। আমি মিটিংয়ে ছিলাম। আমরা কালীঘাট…মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি। ওঁর প্রতীকেই জিতেছি। আমরা ওঁকে দলনেত্রী মনে করে চলেছি। দলের হাইকম্যান্ড উনি। কারণ, ঋতব্রতকে সই করেছিলাম, উনি সেদিন বলেননি যে আলাদা দল করবেন। তারপরে আমরা দেখলাম, ঋতব্রত সত্যি করে আলাদা দল করে  রেজিনগরে…মেদিনীপুরে দুই জায়গায় আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে দিলেন। তারপরে দেখলাম, সিম্বলের জন্য সুপ্রিম কোর্ট করে দিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। আমাদের সঙ্গে কথা ছিল, অফিসঘরটা নেব, দলনেতাটা হবেন। আমরা একই দলে থাকব। তারপরে উনি ভিন্ন দলে যাচ্ছেন, আমরা তো ভিন্ন দলে যেতে পারি না।”

প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানির আগে, মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। অবান্তর অভিযোগ, পাল্টা বলেছেন কুণাল ঘোষ। এসবের মধ্যেই কমিশনে নথি জমা দিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের আরও ১০ দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক কাদের মমতা তৃণমূল কংগ্রেস ? নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ? এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। শুনানিও চলছে। আর এরই মধ্যে, মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার মতো মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে ঘাসফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, ৪ সপ্তাহের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়–দুই পক্ষকেই সদস্যদের হলফনামা ও অতিরিক্ত নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে।

এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হল। সোমবার ভোর চারটে নাগাদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ২৫ তারিখ (সোমবার) সন্ধেয় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে কালীঘাটের হলফনামাগুলো দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের অন্যান্য হলফনামাগুলো সড়কপথে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আমাদের কর্মীরা ২৪ তারিখ সকালবেলা নথিপত্র নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। আধ ঘণ্টা আগে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং আমাদের নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমাদের কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রতিহত করেছেন।

৩০ অক্টোবর, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন শুনানির জন্য দুই পক্ষকে ডেকেছিল। তার আগে সোমবার ছিল নথি জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই আবহেই কমিশনের কাছে নথি জমা দিতে সুপ্রিম কোর্টে আরও সময় পেল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদেরকে আরও ১০দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

আর তারা হলফনামা পেশ করার পর থেকে ১০ দিন সময়সীমা দেওয়া হয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসকে। এই প্রতীক বিতর্কের জল এখন কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার।

 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *