শ্রীরামপুর: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা SIR নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবি উঠছে। আর সেই আবহেই শ্রীরামপুরের সভা থেকে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ যেমন ধরা পড়েছে, তেমন আরও অনেকের কুকর্মই সামনে আসবে। দিল্লি টলমল বলেও এদিন দাবি করেন মমতা। জানান, SIR-এর নাম করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়ে তবেই ভোটে জিতেছে বিজেপি। (Mamata Banerjee)
আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে শ্রীরামপুরে আজ সভা করেন মমতা। সেই নিয়ে দিনভর চরম উত্তেজনা চোখে পড়েছে। হামলা হয়েছে কুণাল ঘোষের গাড়িতেও। সেই আবহেই এদিন সভা করতে ওঠেন মমতা। আর আগাগোড়া SIR নিয়ে জ্ঞানেশ, বিজেপি-কে আক্রমণ করে যান। তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, যারা অন্য়ায় করছে, প্রত্যেকটা রেকর্ডে আছে। যখন ফাঁসবেন, বিজেপি-র লুম্পেনদের, গুন্ডাদের পাশে পাবেন না। কত অ্যারেস্ট করবেন! কত জেল বানাবেন! বাংলায় আপনাদের এখন গুন্ডা-গদ্দারি, মানিমুন পিরিয়ড চলছে। আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেয় না। কল্যাণের জন্য় আদালতের অনুমতি নিয়ে আজ এই মিটিং হচ্ছে আমাদের। যদি মানুষের ভোটেই জিতে থাকেন, তাহলে অন্য দলকে মিটিং করতে দিচ্ছেন না কেন? কেন অন্য দলের স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার থাকবে না? আপনারা কী ভাবেন, এভাবে চলবে? চলবে না দিল্লি টলমল। কথা আছে, পাপ কখনও বাপকে ছাড়ে না।” (Gyanesh Kumar)
আরও পড়ুন: উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা, ভবানীভবনেও ঢুকতে বাধা, ভিতর থেকে বন্ধ গেট, উত্তেজনা চরমে
SIR-এর নেপথ্যে এদিন ষড়ন্ত্রের অভিযোগও তোলেন মমতা। বলেন, “আমরা বলতাম, SIR কেন করেছিলে? শুধুমাত্র জোর করে বাংলা দখল করবে বলে। এমবিতে তো পারবে না! SIR-এর নাম করে ৯২ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। কতবার বলেছিলাম আমরা। ছবি আছে, বস্তায় করে ফর্ম ৬ জমা দিয়েছে। বিজেপি-র সিম্বল লাগিয়ে। সব আছে। ৭ লক্ষ ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। দেশের ১৩ কোটি মানুষ SIR-এর বলি। যাদের ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে, প্রতিপত্তি আছে, তারা খেতে পাবে, আর গরিব মানুষরা বাদ! সাহস থাকলে বড় বাড়ি ভেঙে দেখান। তা না করে গরিব হকারদের রুটি-রোজগার খাচ্ছেন। আমি কোর্টে হকারদের মামলা লড়ব। এদের বিকল্প কাজের সন্ধান দিতে হবে। দিতে হবে ক্ষতিপূরণ।”
SIR বিতর্কে জাতীয় স্তরে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা। সেই নিয়ে মমতা বলেন, “যে অত্যাচার করছো, শীঘ্রই জবাব পাবে। আমিই তো নাম দিয়েছিলাম ভ্যানিশ কুমার। কারণ সবার নাম ভ্যানিশ করে দিচ্ছিল। কতবার করে লাইনে দাঁড়াতে হবে! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবাই পেত। অন্নপূ্র্ণা কেউ পাবে, কেউ পাবে না। আজ ১.৫ কোটি মানুষ পান না। ভোটের আগে বলেছিলেন? শুধু ভ্যানিশ কুমারকে নিশানা করলে হবে না। সে তো আছেই, তাকে সরতেই হবে। সঙ্গে সীমা খন্না, পিছনে আছে নারদ নারদ। বিজেপি-র অত্যাচার জীবন্ত যমালয়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর পর নরকেও বোধহয় এত অত্যাচার করে না যমরাজ। এই কয় মাসে যা দেখলাম…। ১৪০০০ কেস দিয়েছে।”
মমতা আরও বলেন, “তফসিলি থেকে হিন্দু, কেউ কিন্তু ভাল নেই। রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু পরিবারের আধার কার্ড কেড়ে নিচ্ছে পুলিশ। কেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল? আমরা কিন্তু হারিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। SIR-এর নামে ভোটে প্রতারণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট লুঠ করেছে, সব বেরোবে। জ্ঞানেশ কুমার ‘মাস্ট গো’, আমাদের আন্দোলন চলবে। জোর করে আমাদের চেয়ার দখল করেছে। আমরা ওই চেয়ারের কেয়ার করি না। আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব। ৩০ সেপ্টেম্বর আমরা দিল্লিতে বৈঠকে বসছি। আমাকে আঘাত করলে, আমি প্রত্যাঘাত করতে জানি।”