বিজেন্দ্র সিংহ ও অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে মুখ্য় নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা। রাহুল গান্ধী বলছেন, এটা বিশ্বাসঘাতকতা। জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একই দাবিতে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা বিজেপির সম্বিত পাত্র বলেছেন, আজকে সব বিরোধী দল ফাঁদে পড়েছে।

আরও পড়ুন, আজ সেই দিন, সকাল সাড়ে ৮ টার পর থেকেই তৈরি হবে আশঙ্কা, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমলা সতর্কতা জারি করল IMD

লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, আমি নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী অফিসারদের পরিষ্কার বলছি, আপনারা যা করছেন ভুল করছেন। এটা বিশ্বাসঘাতকতা সময় আসবে। আমরা আপনাদের ধরব। বাঁচতে পারবেন না। দিল্লি  আপ প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করা ও তাঁর উপর দেশদ্রোহিতার মামলা চালানোর দাবি জানাচ্ছি।
 
বিজেপি মুখপাত্র ও সাংসদ   সম্বিত পাত্র, আমি তো বলব আজকে সব বিরোধী দল ফাঁদে পড়েছে। দ্য় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটা প্রতিবেদন।তাই ঝড় তুলেছে দেশজুড়ে।ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে মুখ্য় নির্বাচন নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা।যার বিরুদ্ধে অতীতে বারবার বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, তিনি বিজেপির এজেন্ট! তিনি বিজেপির কথায় কাজ করেন। এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম তোলা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নতুন ভোটারের নাম তোলার ফর্ম বদল, ভোটার সংক্রান্ত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সহ নানা বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতবিরোধ ছিল।

গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত ভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু বিবেক জোশী। প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনও কোনও ক্ষেত্রে দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাঁদের আপত্তি অগ্রাহ্য় করা হয়েছিল। কোনও কোনও পদক্ষেপকে দুই নির্বাচন কমিশনার ‘অনুমোদিনহীন’ এবং ‘বেআইনি’ বলেও লিখিত ভাবে চিহ্নিত করেছিলেন।

দ্য় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ জুলাই মণীশ গর্গকে নির্বাচন কমিশনরের প্রশাসনিক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই মণীশ গর্গ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এক অফিসারকে সরিয়ে দেন। এরপর কার্যত নজিরবিহীনভাবে দুই নির্বাচন কমিশনার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক অফিসার ক্য়াবিনেট সেক্রেটারিকে চিঠি লেখেন এবং বলেন ‘এটা স্পষ্টভাবে কমিশনের আইনভঙ্গ’ এবং ‘গর্গের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্য়বস্থা নেওয়া হোক’
 
আর তাই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, এরপর দেশের সব সাধারণ মানুষ কি নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারবে? ওয়েনাড সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক পক্ষপাত ও অন্য়ায়ের বিষয়টি উত্থাপন করে আসছেন।এটি গণতন্ত্রের ওপর গুরুতর আক্রমণ। প্রকৃতপক্ষে এটি দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। রাজ্য়সভার সাংসদ কপিল সিব্বল বলেন, সব সিদ্ধান্তে সংখ্য়াগরিষ্ঠতা থাকা দরকার। যদি ২ জন নির্বাচন কমিশনার বিরোধিতা করে থাকেন, সেটা গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। 

বিজেপি মুখপাত্র ও সাংসদ  সম্বিত পাত্র বলেন, যদি ৩ জন কমিশনার যারা নির্বাচন করান দেশে, তাদের নিজেদের মধ্য়ে মতের মিল না হয় কোনও ধরনের, কোনও ধরনের শলা-পরামর্শ না হয়, আর সবাই হ্যাঁ, হ্যাঁ করে তখন এই বিরোধী দলগুলোই বলে এটা তো ডিক্টেটরশিপ।বুধবার নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে জ্ঞানেশ কুমারের ছবি হাতে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। ইস্তফা দো। ইস্তফা দো। জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো। ইস্তফা দো। ইস্তফা দো। জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো। 
 
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে NOC ইস্য়ু করে, যাতে দেশ থেকে পালাতে না পারে, তার ব্য়বস্থা করা উচিত। আমি মনে করি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতার হওয়া উচিত।’চরম সমালোচনার মুখে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে দীর্ঘ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনও প্রতিষ্ঠানে কোনও আলোচনার সময় বিভিন্ন মতামত ও পর্যবেক্ষণ সামনে আসা স্বাভাবিক বিষয়। এগুলি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ। তিনজন কমিশনারের মধ্যে শুধু একজনের মতামতই নয়, প্রতিটি কমিশনারের মতামতই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *