কলকাতা: বাড়ির ছোটোখাটো অনুষ্ঠান হোক কিংবা উইকেন্ডে বন্ধুবান্ধক বা পরিবারের সঙ্গে কোনও হোটেল বা রেঁস্তোরায় খেতে যাওয়ার প্ল্যান, এই সব জায়গায় যে খাবার খাচ্ছেন তা আসলেই স্বাস্থ্যকর তো ? স্বাদের সাধ মেটাতে গিয়ে অজান্তেই আমরা ডেকে বড় বিপদ ডেকে আনছি না তো ? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য দফতর। আর এই অভিযান থেকে ভয়ঙ্কর সব ছবি সামনে এসেছে। কোথাও পুকুরের জলে বিরিয়ানি, আবার কোথাও হোলি খেলার রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি। এবার সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির হোটেলে রান্নায় ব্য়বহার করা হচ্ছে পশুখাদ্য। জলপাইগুড়ির হোটেলে মিলল দুর্গন্ধযুক্ত পচা খাবার। কোথাও আবার বিক্রি করা হচ্ছে মেয়াদ-উত্তীর্ণ খাবার।

পুকুরের জলে বিরিয়ানির পর এবার আরও ভয়াবহ ও ভয়ঙ্কর একটি ছবি ধরা পড়ল খাদ্য দফতরের অভিযানে। গবাদি পশুর খাবার খাওয়ানো হচ্ছে মানুষকে? এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠল ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির হালদার হোটেল অ্যান্ড রেস্তোঁরায়। বেলপাহাড়ি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন বহু মানুষ বেড়াতে যান, সেখানেই হোটেলে দিনের পর দিন চলছে এই অনিয়ম! রান্নাঘরে চারিদিকে ময়লা, আবর্জনা, মাছি, পোকা তো রয়েছেই! এমনকী রান্নাঘরে পালন করা হচ্ছে মুরগি। চতুর্দিকে পটি করে রেখেছে সেই মুরগি। ঝুলছে ছেঁড়া লুঙ্গি। আর এখানেই উদ্ধার হয়েছে গবাদিপশুর খাবার। এখন প্রশ্ন এই খাবার কী মানুষকেও খাওয়ানো হচ্ছে?  ক্যাটেল মানে কী? চারপেয়ে যারা, চারপেয়ে। আপনি মানুষকে খাওয়াচ্ছেন, কেন? খাদ্য দফতরের অধিকারিকরা এই প্রশ্ন করতেই চুপ থাকলেন হোটেলের কর্মীরা। মিলল কড়া শাস্তি। খাদ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘খুব বাজে পরিবেশ, খুবই জঘন্য পরিবেশ। বেলপাহাড়ি একটা বড় পর্যটন এলাকা। সেই জায়গায় যে এত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করছেন, তার জন্যই ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করতে বাধ্য হলাম।

আরও পড়ুন – ফিরল ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতি ! বিরিয়ানি থেকে মিষ্টি, কোন কোন এলাকার রেস্তোরাঁ ও দোকান থেকে উদ্ধার পচা মাংস ও রং?

অন্যদিকে আবার, জলপাইগুড়ির হোটেল হেভেনস ডিউয়ে দেখা গেল চরম অস্বাস্থ্যকর ছবি! ফ্রিজ খুলতেই একে একে বেরিয়ে এল বাসি, পচা, দুর্গন্ধযুক্ত খাবার। কাঁড়ি কাঁড়ি বাসি ভাত, মাছ, মাংস মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর-এর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বোস জানান, ‘পুরনো, বাসি খাবার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শুধু একজন-দু’জনের নয়, এখানে যা খাবার আছে, মিনিমাম ৩০-৪০ জনের খাবার মজুত করা আছে। বেশ কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকা এবং তার মধ্যে ফাঙ্গাস পর্যন্ত পড়ে গেছে এবং সেই খাবারগুলো খোলার সাথে সাথে একটা বোচকা এমন একটা গন্ধ বের হচ্ছে।’এই অভিযোগ নিয়ে হোটেল হেভেন্স ডিউ-এর ম্যানেজার নয়ন ঘোষ জানান, এই খাবার পচা নয়। সব ঠিকই আছে। ওঁদের পছন্দ হচ্ছে না বলে ফেলে দিচ্ছেন। 

ধূপগুড়ির একাধিক মিষ্টির দোকান, ছানার কারখানাতেও স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই। প্লাস্টিকের ড্রামে মজুত রাখা হয়েছে লিটার লিটার দুধ, তাতে ভনভন করছে মাছি, সঙ্গে সঙ্গে সেই দুধ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন আধিকারিকরা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে চানাচুর কারখানাতেও বেনিয়মের ভয়ঙ্কর ছবি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় আবার কোথাও বিক্রি হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ মিষ্টি। প্যাকেটজাত খাবার থেকে শুরু করে বেবি ফুড। পিংলায় দুটি দোকানকে ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য দফতর। 
অর্থাৎ চারদিকে শুধু ভেজাল আর ভেজাল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *