পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : ‘গদ্দার’ পোস্টারের পর এবার ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে পড়ল ‘নিখোঁজ’ পোস্টার। কলকাতা পোর্ট এলাকায় ফিরহাদ হাকিমের নামে পড়েছে পোস্টারগুলি। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে,  ‘৪ মে-র পর থেকে কলকাতা পোর্টের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম নিখোঁজ।’ অর্থাৎ ফিরহাদ হাকিমের নামে আবারও পোস্টার পড়ল। এবার কলকাতা বন্দরের গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজে তা দেখা গেছে। ইংরাজি ও হিন্দিতে লেখা পোস্টারগুলি সাঁটানো হয়েছে বিভিন্ন ল্যাম্প পোস্ট ও দেওয়ালে।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম বাড়িতে বসে টাকা গুনছেন না কি করছেন এটা তো বলতে পারব না। তবে, মানুষের যে ধারণাটা তৈরি হয়েছে, তার একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৃণমূল গেছে। ফলে, মানুষের দিক থেকে এই ধরনের মন্তব্য আসছে। জানি না তিনি পোর্ট এরিয়ায় যাচ্ছেন না কেন ! ওই এরিয়াগুলোতে যাচ্ছেন না কেন ! হয়তো কিছু ভয় পাচ্ছেন। যেভাবে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভীতি এবং ঘৃণা পশ্চিমবঙ্গে মানুষের তৈরি হয়েছে, সেখানে তৃণমূলের কোনও নেতাই খুব একটা কমফোর্টেবল হচ্ছেন না মানুষকে নিয়ে। কারণ, আর তো তাঁদের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এই নতুন সরকারে সময়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ। মানুষের যন্ত্রণার কথা তো মানুষ বলবেন, প্রশ্নও করতে পারেন। হয়তো সেই কারণেই।”

এক সময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণহস্ত। কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ছিল তাঁর হাতে। তিনি ছিলেন কলকাতার মহানাগরিক। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ছবিটা পাল্টে যায়। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে এখন দূরে ফিরহাদ হাকিম। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির যা গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস হিসাবে পরিচিত, তার অন্যতম মুখ এখন তিনি। এহেন ফিরহাদের বিরুদ্ধেই এবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে পড়ল ‘নিখোঁজ’ থাকা পোস্টার। যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

দিনকয়েক আগে ফিরহাদ হাকিমের কারখানায় হানা দেয় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশন। ফিরহাদের স্ত্রীর মার্বেল ও টাইলসের দোকানেও অভিযান চালান কমিশনের আধিকারিকরা। মূলত ৩২এ এবং ৩৩ নম্বর টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের কারখানায় অভিযান চালায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী কমিশন। গোটা কারখানাই ঘুরে দেখেন তাঁরা। জমির চরিত্রে কী কী বদল হয়েছে, পুরসভার ম্যাপ মিলিয়ে তা খতিয়ে দেখা হয়। কারখানায় ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *