কাশিপুর: প্রাচীন ঐতিহ্য ও রাজবংশের প্রথা মেনে, কৃষ্ণা নবমীর দিন থেকে শুরু হল কাশিপুর পঞ্চকোট রাজবংশের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো (Durga Puja)। কাশিপুরের দেবী বাড়ির মন্দিরে ১৬ দিন ধরে পূজিতা হন দেবী রাজরাজেশ্বরী। অষ্টধাতুর তৈরি চতুর্ভুজা মূর্তিতে দেবীর আরাধনা করা হয়। অন্যান্য দুর্গাপুজোর তুলনায় এই পুজোর রীতি ও আচার অনেকটাই আলাদা। আজও বজায় রয়েছে প্রাচীন রীতি ও বলি প্রথা।     

কথিত আছে, রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শ্রীরামচন্দ্র ১৬ দিন ধরে দেবীর আরাধনা করেছিলেন। সেই প্রথা অনুসরণ করেই পঞ্চকোট রাজবংশে ১৬ দিন ধরে দেবীর পুজো হয়ে আসছে। তাই এই পুজো ‘ষোড়শ কল্পের পুজো’ নামেও পরিচিত। ষোড়শ কল্পের ষোড়শী রূপে দেবী এখানে পূজিত হন।       

রাজপরিবারের পুরোহিত গৌতম চক্রবর্তী জানান, ‘পঞ্চকোট রাজবংশের এই পুজো প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন বলে প্রচলিত। সারা বছরই দেবী মন্দিরে অধিষ্ঠিত থাকেন। পুজোয় আজও বলি প্রথা রয়েছে এবং দেবীর ভোগে মাছ ও মাংস নিবেদন করা হয়। দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন মন্দিরে পাঠ করা হয় ‘শ্রীনাদ মন্ত্র’, যা অত্যন্ত গুপ্ত বলে মনে করা হয়। এছাড়াও অষ্টমীর দিন দেবীমন্দিরে সিঁদুরের উপর রাজরাজেশ্বরীর পায়ের ছাপ ফুটে ওঠার প্রথা রয়েছে। অবিশ্বাস্য বলে মনে হলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি আজও চলে আসছে বলে জানিয়েছেন রাজপরিবারের পুরোহিত।’     

আরও পড়ুন:- কার্তিকের পাশে থাকে নবপত্রিকা, কেন দুর্গাপ্রতিমার আগে কুলডিহা জমিদারবাড়িতে মা মনসার নিরঞ্জন হয়? 

স্থানীয় ইতিহাস ও রাজবংশীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্রমাদিত্যের বংশধর মহারাজা জগতদল সিংহদেওর কনিষ্ঠ পুত্র দামোদর শেখর সিংহদেও বাহাদুর পঞ্চকোট রাজ প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই এই পুজোর সূচনা হয় বলে প্রচলিত। সেই সময় থেকে চলে আসা পুজোর ঐতিহ্য আজও অব্যাহত।        

আজ থেকে শুরু হওয়া এই পুজো চলবে আগামী ১৬ দিন। দুর্গাপুজোর মহানবমীতে বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হবে এবং দশমীর দিন ঘট বিসর্জনের মাধ্যমে এবারের পুজোর সমাপ্তি হবে। অতীতের মতো রাজবাড়ির সেই জৌলুস আর না থাকলেও পুজোর দিনগুলিতে রাজবংশের উত্তরসূরিরা দেবীমন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেদের যোগসূত্র বজায় রাখেন।                  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *