কলকাতা: ওড়িশার ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ABVP-র বিপুল জয়। এই বিষয়ে পোস্ট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ABVP-র কার্যকর্তা ও ছাত্রনেতাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। পাঞ্জাব, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশাল জয়ের পর, ওড়িশাজুড়ে এই অভূতপূর্ব রায়। আমাদের দেশের যুবশক্তির অটল মানসিকতার আরও একটি প্রমাণ। ভারতের যুবশক্তি দৃঢ়ভাবে দেশ প্রথম আদর্শের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের যুবসমাজ সেই সব নৈরাজ্যবাদী শক্তির অশুভ পরিকল্পনাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এস পোস্টে এও বলেন, “যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, রাস্তায় অশান্তি ছড়াতে চায়। ভারতের শাসনব্যবস্থাকে বাংলাদেশের ধাঁচে বদলে ফেলার মরিয়া চেষ্টা। বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শিক্ষার্থীদের কাছে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক এজেন্ডার কোনও স্থান নেই। এর পরিবর্তে আমাদের যুবসমাজ স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় গর্বকে বেছে নিয়েছে”।
ওড়িশার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র সাফল্যকে ‘দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া জবাব’ বলে ব্যাখ্যা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করছে যে দেশের যুবসমাজ ‘রাষ্ট্র প্রথম’ বা ‘Nation First’ আদর্শের পাশে রয়েছে। ১৫ অক্টোবর ওড়িশার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। তার ফল প্রকাশ্যে আসার পরই ABVP-কে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন অমিত শাহ।
কী বললেন অমিত শাহ?
ABVP-র সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অমিত শাহ জানান, প্রথমে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, তার পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এবার ওড়িশার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সংগঠনটির ফলাফল যুবসমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা প্রচার, বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানো শক্তির পরিবর্তে দেশের যুবসমাজ ‘রাষ্ট্র প্রথম’ আদর্শের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। এই ফলাফলকে তিনি দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া জবাব বলেও উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ আট বছর পর ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। ১৫ অক্টোবরের নির্বাচনে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন ABVP উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। সংগঠনটির দাবি, রাজ্যের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আটটিতে তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে অন্য সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ABVP-র জয়ের কথা বলা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলের হিসাব নিয়ে রিপোর্টে পার্থক্য রয়েছে।
ওড়িশার ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ABVP-র সাফল্যকে বিজেপি যুবসমাজের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, BJD-র তরফেও বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ছাত্র সংগঠনের ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সরাসরি রাজনৈতিক দলের প্রতীকে হয় না। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ফলে ক্যাম্পাসের এই ফলাফলকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার লড়াইও স্পষ্ট হয়েছে।