আবীর দত্ত ও অর্ণব মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা: রাজবাড়ি থেকে বনেদিবাড়ি। দশমীতে সিঁদুর খেলার ধুম। শোভাবাজার রাজবাড়ি থেকে বাগবাজার সর্বজনীন। শহরজুড়ে সিঁদুরখেলা৷ দেবীবরণের পরে এক অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে দিলেন মহিলারা৷
দেখতে শেষ দুর্গা পুজো। উমা ফিরছেন শ্বশুরবাড়ি৷ উত্সবের আকাশে বিদায়ের মেঘ৷ আবার এক বছরের অপেক্ষা৷ তার আগে রীতি মেনে সিঁদুর খেলা৷ মহা সমারোহে দেবীবরণের পাশাপাশি সিঁদুরখেলা চলল বাগবাজারে৷ চিরাচরিত প্রথা মেনে দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হল শোভাবাজার রাজবাড়িতে৷ দশমী পুজো শেষ হওয়ার পর বিসর্জনের তোড়জোড়। শোভাবাজার রাজবাড়িতে সিঁদুরখেলা হয় না৷ প্রতিমাকে সিঁদুর পরানো হয়৷ প্রতিমা ঘাটে পৌঁছনোর পর, তোলা হয় জোড়া নৌকায়। বাঁশের ওপর বসানো হয় প্রতিমা।নৌকা ভেসে চলল মাঝগঙ্গায়৷ তারপর বাঁশ কেটে, প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পূর্ণ৷ গঙ্গার ঘাটে ঘাটেও হয় বিসর্জন। দিকে দিকে, মনে মনে এখন একটাই কথা, আসছে বছর আবার হবে৷
প্রাণের উৎসবে বিষাদের বাদ্য়ি। মর্ত্য় ছেড়ে উমার কৈলাসে ফেরার পালা। হাসি মুখে ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর পালা। মুদিয়ালি ক্লাবে মায়ের বরণ সেরে সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা৷ বাতাসে বিষাদের সুর। ৫ দিন বাপের বাড়ি কাটিয়ে উমা এবার কৈলাসের পথে।ছলছল চোখে ঘরের মেয়েকে বিদায় জানানোর পালা । প্রতিবছরের মতো, এবারও, প্রথা মেনে মুদিয়ালি ক্লাবের প্রতিমা নিরঞ্জন হল। তার আগে দেবীবরণ, সিঁদুর খেলা, সবাই ভাগ করে নিলেন উৎসবের শেষদিনের আনন্দটুকু৷ সঙ্গে ধামসা মাদলের তালে নাচ। দেবীকে বরণ শেষে, শুরু হয় নিরঞ্জন পর্ব।কয়েকদিনের আনন্দ, আবার শুরু গতানুগতিক জীবন। তবে মন খারাপের মধ্যেও ভাসছে একটাই সুর, ‘আসছে বছর আবার হবে’।