কলকাতা: চোরবাগানে সপ্তমীর দিন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। মণ্ডপে হুড়োহুড়ির সময় পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯জন মানুষের। আর এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পরেই, নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মণ্ডপে মণ্ডপে বদলে গিয়েছে ভিড়ের ছবিটা। অধিকাংশ মণ্ডপের ভিতরে বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোবাইল ব্যবহার করলেই সতর্ক করছে পুলিশ, দেওয়া হচ্ছে ফোন কেড়ে নেওয়ার সতর্কতাও। আর আজ দশমী, ঘাটে ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের পালা। আর বিসর্জন ঘিরেও, কলকাতা থেকে জেলার ঘাটগুলিকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হল। ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জলপথে এবং স্থলপথে নিজেই খতিয়ে দেখলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বিসর্জনের ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে কী বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর?
এদিন বাবুঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করার পরে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই বিসর্জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। এই বছর ব্যবস্থা আরও সুন্দর করা হয়েছে। একদিকে যেমন নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে, তেমনই মায়ের মূর্তি বিসর্জনের পরে তার পবিত্রতা এবং নিষ্ঠা যাতে বজায় থাকে, সেইদিকেও নজর রাখা হয়েছে। এর আগে অনেকেরই ক্রেনের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ ছিল। আমরা যে যে তথ্য পেয়েছি, সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আরও ভাল ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছি। আগে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য সরকার এই ব্যবস্থা করত। এবার নিরাপত্তার স্বার্থে NDRF-কেও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। পবিত্রতা, ঐতিহ্য, শাস্ত্র, পরম্পরা, নিয়ম… যা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে, সেটা মেনেই বিসর্জন হবে। এটা একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উৎসব তো বটেই, তবে সেটা গৌণ। প্রথমে এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এর ঐতিহ্যকে ঠিক রাখতেই হবে। তাই এই অনুষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতেই হবে। এমনকি মা-কে যাঁরা নিয়ে যাবেন, তাঁদের নাম পরিচয়ের কথাও CP-কে বলে গেলাম। সেগুলোও উল্লেখ করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই শুধু প্রতিমায় হাত দিতে পারবেন। এর মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই। কাঠামো এবং জিনিসপত্র সকালবেলায় তুলে নেওয়া হবে। বাড়তি সতর্কতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২ মিনিটের একটা স্লিপের জন্য চোরবাগানে দুর্ভাগ্যজনক একটা ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে, টিমও গঠন করা হয়েছে। আমরা চাইছি নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক না থাকুক। বাড়তি উদ্যোগ থাকুক।’