
তিথি মতে দশমী পড়তেই তাই বাজল বিদায়-ঘণ্টা। আজ বিচ্ছেদের দশমী। নিয়ম মেনে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে পাড়ি দেবেন উমা। আনন্দে উচ্ছ্বাসে মিশেছে বিষণ্ণতার সুর। সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী-বরণ। ঘট বিসর্জনের পর সিঁদুরখেলা।

গঙ্গার ঘাটে ঘাটে শুরু বিসর্জনের পালা। হাসি মুখে মাকে বিদায় জানিয়ে আরও একটা বছরের অপেক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী বাবুঘাট পরিদর্শন করে যাওয়ার পর সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন। এবার বাবুঘাট সহ শহর থেকে জেলার অন্যান্য ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিসর্জনের বিষাদ উত্তর ২৪ পরগনার টাকির পূবের বাড়িতেও! প্রত্য়েক বছর প্রথম টাকি পূবের জমিদার বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় ইছামতির ঘাটে। তারপর টাকির বিভিন্ন ক্লাব ও জমিদার বাড়ির প্রতিমা দেওয়া হয় নিরঞ্জন।

তবে এই বছর চোরবাগানে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তার কারণে কলকাতা থেকে জেলায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। আজ কলকাতা-সহ রাজ্যের ৪ জায়গায় বিসর্জন প্রক্রিয়ার তদারকিতে থাকবেন, ১৮ জন IPS।

প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য এবার নিমতলায় ৯টা ট্রলি রাখা হয়েছে। বাবুঘাটে রাখা হয়েছে ১২ টা ট্রলি। ভাসানের ব্যবস্থাপনায় ৩০০ জন কুলিকে রাখা হয়েছে। সমস্ত ব্যবস্থা আজ নিজে খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিসর্জনের ঘাটে রয়েছে NDRF-এর টিম। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে সঙ্গে সঙ্গে যাতে কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘাটগুলিতে লাগানো হয়েছে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

আজ প্রতিমা বিসর্জন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবুঘাটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এদিন বাবুঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পরে, জলপথেও ঘাটগুলি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুধু ঘাটে নয়, জলপথেও টহল দেবে নিরাপত্তারক্ষীরা। এদিন পুলিশ এবং NDRF-এর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে এই কাজগুলি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ সামলালেও, বাড়তি সতর্কতার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে NDRF।

এদিন বাবুঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করার পরে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই বিসর্জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। এই বছর ব্যবস্থা আরও সুন্দর করা হয়েছে। একদিকে যেমন নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে, তেমনই মায়ের মূর্তি বিসর্জনের পরে তার পবিত্রতা এবং নিষ্ঠা যাতে বজায় থাকে, সেইদিকেও নজর রাখা হয়েছে।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর আগে অনেকেরই ক্রেনের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ ছিল। আমরা যে যে তথ্য পেয়েছি, সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আরও ভাল ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছি। আগে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য সরকার এই ব্যবস্থা করত। এবার নিরাপত্তার স্বার্থে NDRF-কেও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। পবিত্রতা, ঐতিহ্য, শাস্ত্র, পরম্পরা, নিয়ম… যা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে, সেটা মেনেই বিসর্জন হবে। এটা একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উৎসব তো বটেই, তবে সেটা গৌণ। প্রথমে এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এর ঐতিহ্যকে ঠিক রাখতেই হবে। তাই এই অনুষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতেই হবে। ‘
Published at : 21 Oct 2026 01:06 PM (IST)