রাজীব চৌধুরী, সোমক লাহিড়ি ও প্রদ্যোৎ সরকার, কলকাতা: ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। কারও জ্বর, কেউ আবার তার সঙ্গে ভুগছেন অসহ্য মাথা যন্ত্রণায়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি সচেতনতায় জোর দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে প্রশাসন।মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া, বাঁকুড়া। কোথাও লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। আবার কোথাও ঘরে ঘরে খোঁজ মিলছে জ্বরের রোগীর। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, দিকে দিকে বাড়ছে ডেঙ্গির দাপট। ডেঙ্গি হলে কোন বিষয়গুলি নজরে রাখবেন ? কী জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
আরও পড়ুন, পুরভোটে মেয়র হবে কালীঘাট তৃণমূলের, বড় দাবি কুণাল ঘোষের, কী প্রতিক্রিয়া বাকিদের ?
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ বলেছেন, ‘ডেঙ্গির থেকে বাঁচার প্রিভেনশন ছাড়া, আর কোনও উপায় কিছু নেই। ডেঙ্গির বিষয়ে আরও একটা কথা বলে রাখি , বাবা মা-রা ভাবেন, যে জ্বর যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ খারাপ। ডেঙ্গি এমনই একটা জিনিস, যেই জ্বরটা নেমে গেল, তখন তাঁকে বিপদে ফেলে। প্রথমবার ডেঙ্গিতে খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গিতে খারাপ হয়, জ্বরটা যখন নেমে যায়, তারপরে। এজন্য আমি সবসময় বলি, জ্বরটা নেমে যাওয়ার পর কেমন আছে বাচ্চাটা, জ্বরটা নেমে যাওয়ার পর তার ইউরিন কেমন আছে, জ্বরটা নেমে যাওয়ার পর তার পেটে ব্যাথা হচ্ছে কিনা, এগুলি ডেঙ্গির শক সিনড্রমের লক্ষণ।সেগুলি আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।’
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, আপাতত ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। ওই জেলার নওদা ও রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা।নওদার আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ জন। গত পাঁচদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন নওদার বাসিন্দা সাহিদ শেখ। রক্ত পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ে ডেঙ্গি। নওদার পাটিকাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুর নাসিক, পরিবার সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে গা হাতে পায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা হচ্ছিল তাঁর। টেস্ট করার পর শুক্রবার ডেঙ্গি ধরা পড়ে। তারপর থেকেই হাসপাতালে ভর্তি তিনি। শুক্রবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, মুর্শিদাবাদের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা হাফিজুল শেখও।
মালদার ইংরেজবাজারের সুভাষপল্লি এলাকার বাসিন্দা ভীম রায়।রেললাইনের পাশে ঘিঞ্জি এলাকায় বাড়ি। পাশেই রয়েছে নয়ানজুলি। বর্ষায় বেড়ছে মশার উৎপাত।এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভোগার পর, তাঁর ডেঙ্গি পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ইংরেজবাজারেরই নেতাজি কলোনির বাসিন্দা টুসি ঋষি,জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ৭ অগাস্ট ডেঙ্গি ধরা পড়ে তাঁর।
ডেঙ্গির গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী বাঁকুড়াতেও। এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই। বাঁকুড়ার ডেপুটি CMOH সজল বিশ্বাস বলেন, যাদের ডেঙ্গি ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করতে হয়েছে। দেরিতে বর্ষা হওয়ায় ডেঙ্গি বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ঠিকমতো প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা না নিলে সংখ্যাটা হঠাৎ করে বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। কিছুদিন আগেই নদিয়ার করিমপুর ১ নম্বর ব্লকে দেখা দিয়েছিল ডেঙ্গির প্রকোপ। এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও, মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা প্রচারে খামতি রাখতে রাজি নয় প্রশাসন। ডেঙ্গি থেকে বাঁচতে কী করবেন, এনিয়ে চলছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার।ডেঙ্গি থাকে বাঁচতে সবার আগে দরকার সচেতনতা। তাহলে অনেকটাই এড়ানো যাবে এই রোগ, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।