কলকাতা: উৎসবের মরশুমে ফের ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গি। পুজোর মাসে একাধিক জেলায় যেভাবে বাড়ছে জ্বরের রোগী, তাতে বাড়ছে উদ্বেগ। শুধু পুজোর মাসে একলাফে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা। অক্টোবরের প্রথম ২৩ দিনেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও, ‘পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে’ বলে দাবি করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে ডেঙ্গি-তালিকার শীর্ষে মুর্শিদাবাদ, তিন নম্বরে আছে কলকাতা। আক্রান্ত-তালিকার ২ নম্বরে থাকা হাওড়াতেও দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি, অক্টোবরের প্রথম ২৩ দিনে রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ছিল ৩ হাজার ১৭২ জন। সেখানে একমাসের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য দফতরের জেলা ভিত্তিক ডেঙ্গি রিপোর্ট বলছে, আক্রান্তের নিরিখে তালিকার প্রথম চারে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। অনেকেই জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে জ্বর। ওষুধ খেলে জ্বর কমে যাচ্ছে,কিন্তু আবার আসছে। অন্যদিকে আবার, কারোর ৩-৪ দিন টানা জ্বর, কিছুতেই কমছে না।
এর মধ্যে আবার অজানা জ্বরে কাঁপছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়। ঘুরে ফিরে আসছে জ্বর, এমনটাই জানাচ্ছেন হাসপাতালের লম্বা লাইনে দাঁড়ানো রোগীদের একাংশ। এলাকায় ডেঙ্গি প্রবণতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ আশাদুল সর্দার। তিনি বলেন, ” দেগঙ্গা ডেঙ্গি প্রবণ এলাকা। অফিশিয়ালভাবে আমাদের ৭২ ডেঙ্গি রোগী আছে। চিকিৎসা চলছে। গত সপ্তাহে আমাদের ডেঙ্গি আক্রান্ত ছিল ৮, এই সপ্তাহে আমাদের ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৬। এই সংখ্যাটাকে আমাদের জিরো করার টার্গেট রয়েছে।”
হাওড়াতেও ফের ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত। ১৪ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত, মাত্র এক সপ্তাহে হাওড়া শহরে ৪৭জন ডেঙ্গি রোগীর খোঁজ মিলেছে। তাছাড়া ডোমজুড়ে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। এর মধ্যে ১৯ জনই বাঁকড়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত জানিয়েছেন, ” বাঁকড়া এলাকায় ১৪ অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত টোটাল ২৭ জন রোগী পাওয়া গেছে ডেঙ্গি পজিটিভ। ২০২৫-এর ৪৩ সপ্তাহে সংখ্যাটা ছিল ৬৫৭, ২০২৬-এর ৪৩ সপ্তাহে সেটা ৬৩০। এখানে একটা সপ্তাহে প্রচুর কেস হয়ে গেছে ১০০টা, সারা জেলায়।”
এই পরিস্থিতি কী জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ?
মাত্র ২৩ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি বলেন, ” পশ্চিমবঙ্গে উদ্বেগ নেই। কোনও উদ্বেগ নেই। আড়াই হাজার কেস কম। ২০০ ভর্তি আছে। ৬ জন ICU-তে আছে। পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির এটা কিছু না। আমরা সজাগ ছিলাম প্রথম দিন থেকে।”