কলকাতা: ফের বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ। আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যেই তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে পারে সিস্টেমটি। আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনায় নজর রাখছেন আবহবিদরা। তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ওই নিম্নচাপের জেরে কোনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি।
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ
আবহাওয়া দফতরের ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টায় প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ আন্দামান সাগর, উত্তর আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উপর অবস্থান করছিল নিম্নচাপ অঞ্চলটি। শুক্রবার পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সেটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান সাগরের উপর সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যে এই নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে সেটি।
অর্থাৎ নভেম্বরের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, তীব্রতা এবং উপকূলে সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী বুলেটিনগুলির দিকে নজর রাখা জরুরি।
বাংলায় কি প্রভাব পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের?
নতুন করে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আগামী সাত দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
১ নভেম্বর, রবিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার এক-দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গেও রবিবার কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার এক-দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কবে থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ ও ৩ নভেম্বর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ৪ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।
অন্যদিকে, ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বজ্রপাত নিয়ে সতর্কতা
রবিবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা এড়াতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বজ্রঝড় শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গাছের নীচে কিংবা বিদ্যুতের খুঁটির পাশে আশ্রয় না নেওয়ার পাশাপাশি জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা। সিস্টেমটির শক্তি ও গতিপথের উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। আপাতত বাংলার জন্য সরাসরি কোনও ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা না থাকলেও রবিবারের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসকে হালকাভাবে নিতে নারাজ আবহবিদরা।