সত্যজিৎ বৈদ্য, ঐশী মুখোপাধ্যায়, সুজিত মণ্ডল, কলকাতা: রাজ্যের নানা প্রান্তে ভাঙচুর চলছে সিপিএমের বুক স্টলে। বিজেপি আশ্রিত দুষকৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলছে বামেরা। যা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই শোনা গেছে সমালোচনার সুর। মঙ্গলবার এনিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিন্ন মত শোনা গেল তাঁর গলায়।
দিকে দিকে সিপিএমের বুক স্টলে হামলা, ভাঙচুর, আগুন! অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির দিকে। এই আবহে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘আমরা সব বই প্রেমী। কিন্তু আপনি পুষ্পাঞ্জলি দেবেন না। নবমীর আরতি করবেন না। সিঁদুর খেলবেন না। আপনি হাতে ডোর লাগাতে গেলে বলবেন না না লাগাবেন না। টিকা লাগাতে গেলে বলবেন না না লাগাবেন না।আপনি গলায় তুলসি রাখবেন না। সনাতনী হিন্দুত্বের যে পরম্পরা-ঐতিহ্য আছে, তার বিরোধিতা করবেন। তারপর আপনি গিয়ে বলবেন যে দুর্গাপুজোর সামনে গিয়ে বই দোকান বানাবেন।’
সিপিএমের স্টল ভাঙা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই ভিন্ন সুর
পরপর সিপিএমের বুক স্টল ভাঙা ঘিরে বিজেপির অন্দরেই শোনা গেছে সমালোচনার সুর। অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলছেন, ‘এ তো গুন্ডামি হচ্ছে। গেরুয়া পরে গুন্ডামি। এই জিনিসগুলো আমি কোনওভাবেই সমর্থন করতে পারি না। আমি লজ্জিত জানেন, কেন, এটা আরও লজ্জিত কেন, যারা করছে, তারা আমাদের দলের নামে করছে। এরা কে? এদের কে দায়িত্ব দিয়েছে এটা করার? এরা আমাদের পার্টিকে, আমাদের সরকারকে বদনাম করছে।’ অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল স্টল দিতে পারে। এটা তাদের অধিকারের মধ্য়ে পড়ে। বুলডোজার নিয়ে চলে যাচ্ছে, এটাকে সমর্থন করব এটা কল্পনা করাও পাপ। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনও বিজেপি কর্মী যদি যুক্ত থাকে, আমরা তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্য়বস্থা নেব।’
শুধু বিজেপির একাংশই নয়, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন RSS নেতা জিষ্ণু বসু। RSS পূর্ব ক্ষেত্রের সহ ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু বলছেন, ‘কারও বুকস্টল বন্ধ করার মধ্য়ে কোনও পৌরুষ নেই। যারা এরকম ক্ষমতার দম্ভে মদমত্ত হয়ে অন্য়ের আদর্শকে বলার অধিকার দিচ্ছেন না, বুকস্টল করতে দিচ্ছেন না, বুকস্টল ভেঙে দিচ্ছেন তারা ভারতবর্ষকেও বোঝেননি। তারা হিন্দুদের নাম নেওয়ার যোগ্য় নন।’
শুভেন্দু অধিকারীর ভিন্ন মত
এসবের মধ্যেই মঙ্গলবার সম্পূর্ণ ভিন্ন মত শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যারা দুর্গাপূজাকেই মানে না, যে কোনও পূজাকেই মানে না, যাঁরা বেদ, উপনিষদ, গীতা–তাকেই স্বীকার করে না, তাদেরকে পুজোর সময় বই বিক্রি করতে না দেওয়াই ভাল, আপনি পার্টি অফিসের ভিতরে বই রাখুন লাইব্রেরি বানিয়ে, আপনার সব পার্টি অফিস খোলা আছে। অফিসে গিয়ে যাঁর দরকার সে মার্কসীয় তত্ত্ব নেবে, এগুলো সব বিদেশি তত্ত্ব। আমরা আমাদের ভারতীয় তত্ত্বে বিশ্বাস করি। সুভাষবাবুর তত্ত্ব, স্বামী বিবেকানন্দের তত্ত্ব এগুলোতে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা গীতাকে শুধু ধর্মগ্রন্থ নয়, বিজ্ঞান বলে মনে করি।’
বুকস্টল ভাঙার বিরোধিতা করে, সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সবমিলিয়ে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনীতির পারদ।