কলকাতা: শনিবারের উৎসবের রাত। পুজোর আনন্দ নিমেষে বদলে গেল বিভীষিকায়। চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে গেলেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনও হাসপাতালে ভর্তি আরও অনেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু এলাকায় জারি হয়েছে ১৬৩ ধারা এবং ৭ জনকে গ্রেফতরা করেছে পুলিশ। কিন্তু কিছু প্রশ্ন এখনও মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। চোরবাগানের দুর্ঘটনার দায় কার ? মণ্ডপের ব্যবস্থাপনার খামতি কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল প্রশাসনের ? নাকি নজর পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়ায় থেকে গেছিল গাফিলতি? এই প্রশ্ন গুলোর পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়াকেও কাঠগোড়ায় তুলেছেন অনেকে। এবার এই পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন, আহত ও নিহতদের পরিবারের লোকেরা। 

চোরবাগানে দুর্গাপুজোয় বেনজির বিপর্যয়। পুজোর রোশনাইয়ের মধ্যেই, চিরতরে চলে গেল উনিশজনের জীবন প্রদীপ। আঁধার নামল পরিবারগুলিতে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? বড় পুজোগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম হল, কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, দমকল, এবং CESC-কে নিয়ে একটা সমন্বয় কমিটি তৈরি হয়। প্রস্তুতি বৈঠকের পাশাপাশি, পুজো মণ্ডপগুলো অন্তত দু’বার পরিদর্শন করা হয়। কিন্তু, চোরবাগানের পুজো মণ্ডপের বেরনোর রাস্তা যে ফানেলের মতো। শুরু থেকে শেষ, পুরো খাঁচার মতো। বেরনোর রাস্তা যেখানে এসে মিশছে, এখানে জেনারেল পাবলিক ও VIP এক জায়গায় এসে মিশছে। ভিতরে সিঁড়ি, একেবারে আলো আঁধারি, তারপর সিঁড়ি, তারপর স্লোপ। এগজিট পয়েন্টেও লোহার ব্যারিয়ার। এসব কেন কারও নজরে এল না ?

আরও পড়ুন – ‘এতজনের অকালপ্রয়াণ…’, চোরবাগান ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ, কী জানালেন ?

অন্যদিকে আবার, পুজোর প্যান্ডেলে লোক টানতে ব্যবহার করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ভিড় বাড়াতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দের কাজে লাগিয়ে চলেছে দেদার প্রচার, এমনটাই দাবি অনেকের। ‘সোশাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছিল, দর্শনার্থীদের উৎকণ্ঠার কথা।’ তৃতীয়ার দিন চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে এসে, সোশাল মিডিয়ায় পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন এক তরুণী। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তখনই ব্যবস্থা নিলে হয়তো শনিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত! তাহলে কেন ব্যবস্থা নিল না পুলিশ-প্রশাসন এবং পুজো উদ্যোক্তারা? 

সোশাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছিল, দর্শনার্থীদের উৎকণ্ঠার কথা। তৃতীয়ার দিন চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে এসে, সোশাল মিডিয়ায় পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এই তরুণী। মৃত আকৃতি কুমারী রাউথের দিদি পল্লবী রায় জানান, ‘এখানে পুলিশ কোনও কাজ করেনি। কোনও কাজই করেনি, যদি করত, তাহলে আমার বোন আজ বেঁচে থাকত।’ মৃত তানিয়া বিশ্বাসের দাদা বলেন, ”আমি যা পুজোতে দেখলাম, এবার পুজোতে কোনও হেলদোল নেই এবার, একদম প্রশাসন বেকার পুজোতে। কোনও দায়িত্ব নেই প্রশাসনের। এই দুর্ঘটনাটা ঘটত না। প্রতিটা পুজোর প্য়ান্ডেলে এক অবস্থা। কোনও দিকে প্রশাসনের কোনও খবর নেই।” ফলে, নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, মণ্ডপে ব্যবস্থাপনার খামতি কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল প্রশাসনের? নাকি নজর পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়ায় থেকে গাফিলতি থেকে গেছিল? চোরবাগানের পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতা থাকাতেই কি কড়া ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *