চোরবাগানের পুজো দেখতে গিয়ে শেষ শিশু-মহিলা-পুরুষ। মৃত্যু মিছিলের দায় ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যেদিক চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, সেদিন গত শনিবার সন্ধেয় যাদবপুরের বুক স্টল নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয় পুলিশের। সেদিন পুরসভার গাড়ি এবং বুলডোজারও আনা হয়েছিল বুক স্টলে । সিপিএমের দাবি, পুলিশকে ক্রাউড ম্য়ানেজমেন্টের কাজে না লাগিয়ে বামপন্থীদের স্টল ভাঙার কাজে লাগানো হচ্ছে। রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র নিশানা করেছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস।  

চোরবাগানের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। পুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গিয়েছে শোকের আবহে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ভিড় সামলাতে পুলিশের সক্রিয়তা চোখে পড়েনি। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনের ভূমিকা, একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু প্রিয়জনকে হারানো পরিবারগুলির কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই মর্মান্তিক পরিণতি কেন আটকানো গেল না? মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেল বহু পরিবার। এই ঘটনায় শিশু, মহিলা-সহ মোট ১৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? ভিড় নিয়ন্ত্রণে কি যথাযথ ব্যবস্থা ছিল? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী  নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসম ও পুলিশের ভূমিকা,  তৎপরতা নিয়ে । সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পরেও প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাঁর বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিটি থানার পুলিশকে নিজের এলাকার বড় পুজোগুলিতে গিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল। শতরূপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরেও রাতের দিকে একটি বুক স্টল ভাঙার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “ভোররাতে পুলিশ পাঠালেন এই স্টলকে ভাঙার জন্য। এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও না এদের মান আছে, না এদের হুঁশ আছে।”

অন্যদিকে, মমতা অনুগামী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্যেও উঠে এসেছে পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর না দিয়ে অন্য কাজে পুলিশকে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “পুলিশ সেখানে ব্যস্ত হচ্ছে, কোথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের উপর হামলা করানো, কোথায় সিপিএমের বুক স্টল ভাঙা।”

দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চললেও, পুজোর সময় সকলকে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই সময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগিতা করা উচিত। তিনি বলেন, “অন্যের সমালোচনা না করেও বলব, এই সময়টাতে সবার উচিত সুন্দরভাবে পুজো কাটানোর জন্য সহযোগিতা করা। এবং রাজনীতি থেকে একটু দূরে থাকা।” 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *