কলকাতা: চোরবাগানে দুর্গাপুজোয় বেনজির বিপর্যয়। পুজোর রোশনাইয়ের মধ্যেই, চিরতরে চলে গেল উনিশজনের জীবন প্রদীপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ধে সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেইসময় কাতারে কাতারে মানুষ ছিল চোরবাগান সর্বজনীনের বাইরে। হাজার হাজার দর্শনার্থী। একে অপরিসর রাস্তা, তার ওপরে রাস্তার ধারে স্টল। যেভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।সেজন্যই ঘটে যায় এত বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ গেল এতগুলো নিরীহ মানুষের।
এবার সে নিয়েই মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের। কৌস্তভ বাগচী বলেন, ‘থিমের জন্যেই যত কাণ্ড’, সনাতনী মতে পুজো চান বিজেপি বিধায়ক। বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘আর নয় থিমের চোখ রাঙানি, পুজো হোক সাত্ত্বিক মতে। মা দুর্গাকে নিয়ে এত পরীক্ষা, তার জন্যেই এত মানুষ পদপিষ্ট’, চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দাবি কৌস্তভ বাগচীর।
চোরবাগান-বিপর্যয়ের কারণ কী? বৃষ্টির জন্য চোরবাগানের মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারছিলেন না দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে এন্ট্রি গেট দিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্যান্ডেলে ঢুকে পড়েন আরও দর্শনার্থী। এক্সিট গেটের রাস্তা সামনের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছিল। বাইরে বৃষ্টি পড়ায় এক্সিট গেটের মুখে অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। সেই সময়ে মাইকে হঠাৎ পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণায় আতঙ্ক।
তাঁরা বলেন, “প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা বেরিয়ে যান, এখানে দাঁড়াবেন না। প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে, আপনারা বেরিয়ে যান। প্যান্ডেল ভেঙে গেলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন”, মাইকে এই ঘোষণা শুনে মণ্ডপ থেকে বেরনোর জন্য হুড়োহুড়ি। এক্সিট গেটের মুখ সরু থাকায় সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে যান অনেকে। বন্ধ ছিল মণ্ডপের এমারজেন্সি এক্সিট গেটও।
এই বিপর্যয়ে প্রশ্নের পাহাড়। কলকাতা পুলিশ, দমকল, পুরসভা, CESC অন্তত দু’বার মণ্ডপ পরিদর্শন করে। তারপরেও মণ্ডপে ব্যবস্থাপনার খামতি কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল প্রশাসনের? নাকি নজর পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়ায় থেকে গেছিল গাফিলতি? উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতা থাকাতেই কি কড়া ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ? শুক্রবারও চোরবাগানের পুজোয় প্রবল ভিড়ের চাপে ব্যাপক হুড়োহুড়ি হয়। শুক্রবার ব্যবস্থা নিলে তো শনিবারের ঘটনা এড়ানো যেত। তারপরেও কেন ব্যবস্থা নিল না পুলিশ প্রশাসন?
চোরবাগানের ঘটনা পুজোর আনন্দ ফিকে করে দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। অসাবধানতাবশত এমন ঘটনা ঘটলেও দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত, প্রতিক্রিয়া পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের।