কলকাতা : দিন কয়েক আগেই একশো দিন পূর্ণ করে ছেড়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার । কিন্তু এখনই দিক – দিক থেকে আসছে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের তোলাবাজির অভিযোগ, জেলায় – জেলায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের খবরও প্রকাশ্যে। আর সেটাকেই এখন আক্রমণের অস্ত্র করছে বিরোধীরা। 

কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, ‘ জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিজেপির বিধায়ক তাকে বলতে হচ্ছে, পনেরো বছরের যা যা অভিযোগ ছিল দু মাসে ক্রস করে গেছে আমাদের কর্মীরা । বিজেপির উপরের নেতানেত্রীদের বলতে হচ্ছে দোলাবাজি না, গুণ্ডাগিরি না। ‘

এদিকে পার্টির হয়ে ব্যাট ধরতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলছেন, ‘ আপনার ছেলে যদি দোষ করে, আপনি তো প্রথম দিনই তাকে ত্যাজ্যপুত্র করে দেন না ! ওটা বোঝান, শোনান, বাবা বলেন, সোনা বলেন, তারপর দু-চার ঘা দেন। আমাদের পার্টিও তাই করছে। যখন না মানে, তাকে ত্যাজ্যপুত্র করতে হবে । তখন লাথি মেরে বের করে দেবে পার্টি । তখন বুঝতে পারবে। ‘  

এই প্রসঙ্গে বিধায়ক (‘ঋতব্রত-তৃণমূল’)   সন্দীপন সাহা বলছেন,তৃণমূলে এগুলো হত বলেই তো মুখ ফিরিয়েছে। এটা প্রশাসনের দেখা উচিত। 

গত কয়েকদিনে খাস কলকাতাতেই বারবার সামনে আসছে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। উঠছে তোলাবাজির অভিযোগ। আনন্দপুর, এন্টালি থেকে কসবা- বারবার সামনে আসা এই ধরনের ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। আনন্দপুরে সামান্য প্রীতিভোজের আয়োজন! সেখানেও উঠেছে তোলাবাজি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ ! অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার পদ্মপুকুর পার্কে, দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো ঘিরে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুলকালাম বেঁধেছে।   যদিও এ নিয়ে বিজেপির-ই একদল কর্মী বলছেন, এগুলো সব ৪ মে-র পর হঠাৎ বিজেপি হয়ে যাওয়াদের কাণ্ড। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আগের তৃণমূল আমলের মতো বিজেপি আমলেও কি তোলাবাজি থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ মারাত্মক আকার নিচ্ছে?

১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে সাড়ে তিন মাস আগে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সরকারের থেকে রাজ্যের মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মতো কারণ।   তোলাবাজি রুখতে বারবার বার্তা দিতে হচ্ছে খোদ দলের রাজ্য সভাপতিকে। এমনকী, দলের নাম করে সিন্ডিকেট-তোলাবাজি রুখতে ফ্লেক্স দিতে হয়েছে কসবার ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির সভাপতিকে।  ক্ষমতায় আসা কয়েক মাসের মধ্যেই যখন এসব ছবি সামনে আসছে, তখন কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কালীঘাট-তৃণমূল শিবির। গত কয়েকদিনে খাস কলকাতাতেই তোলাবাজি থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বিজেপির অন্দর থেকেই! এখন রাজ্য নেতৃত্ব এটাকে কী করে সামাল দেয়, সেটাই দেখার।  

 

 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *