সমীরণ পাল, আবির দত্ত, কলকাতা : দমদমে তৃণমূলকর্মীদের একাংশের বিজেপিতে নাম লেখানোর চেষ্টা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি নেতা সৌমিক রাহা। রবিবার এলাকায় গিয়ে তাঁদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন তিনি। ভোটের আগে অবধি তৃণমূল করে, এখন বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করলে মামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোরা কালকে তৃণমূল করেছিস, তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে ঘুরেছিস, আজকে বিজেপি, তোরা শুরু কী করেছিস? তোরা চাইছিসটা কী? তোরা চাইছিসটা কী?’ 

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই শিবির বদলাতে তৎপর হয়েছেন অনেকে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানোর ঝোঁক দেখা যাচ্ছে ওপর থেকে নীচ অবধি সব স্তরেই। প্রত্য়াশিতভাবেই এনিয়ে বিজেপির আদি নেতাদের মধ্য়ে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। এবার সেই ছবি দেখা গেল দমদমে। বিজেপি নেতা বলেন, ‘যদি তোদের বিজেপির কারও সঙ্গে ছবি দেখি… আমরা কষ্ট করে এই দলটাকে এনেছি। তোরা এখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইসব করতে থাকবি… আমি এসব সহ্য় করব না… আমরা কষ্ট করে বিজেপি দলটাকে এনেছি। তোলাবাজ, চোর, জোচ্চর সবাই বিজেপিতে আসবে, আমরা মেনে নেব না।’ 

‘ব্রিগেডে হোক, মাঝে দড়ি থাক, কে কাকে ভালোবেসে তৃণমূল করে দেখে নিই’, ঋতব্রতকে চ্যালেঞ্জ কল্যাণের 

রাজ্য় বিজেপির নেতা সৌমিক রাহার দাবি, সম্প্রতি দমদম পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণেশ পুজোর আয়োজন করে কয়েকজন। এই উদ্য়োক্তারা আগে তৃণমূল করতেন, এখন বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এই আবহে গত রবিবার সন্ধেয় এলাকায় পৌঁছে তাঁদের হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি নেতা সৌমিক রাহা। ২০২২ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন এই সৌমিক রাহা। তাঁর দাবি, সেই সময়, তাঁর আয়োজিত গণেশ পুজোয় এসেছিলেন রাজ্য়পাল। তখন তাঁর উদ্দেশে স্লোগান দেন এই ব্য়ক্তিরা। তখন ছিলেন তৃণমূলে, আর এখন বিজেপিতে ঢুকতে চাইছেন। বিজেপি নেতা সৌমিক রাহার দাবি, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে ঢুকতে চাওয়া এই ব্য়ক্তিরা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। এদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন এই বিজেপি নেতা। বিরোধী শিবির ছেড়ে ক্ষমতাসীন দলে নাম লেখানোর ছবি এরাজ্য়ে নতুন নয়। পালাবদলের পর এখন তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। 

রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, ‘দেখ ভাই, পরিষ্কারভাবে কথা বলছি, স্পষ্টভাবে কথা বলছি, এই ওয়ার্ড থেকে আমি নির্বাচন লড়েছিলাম। কে, কী করে আমি খুব ভাল করে জানি। তোরা ৪ তারিখ দুপুর ১২টার আগে পর্যন্ত তৃণমূলই করতিস। তুই স্পেশালি আমার বাড়ির সামনে বলেছিলিস, আয় রাজ্য়পাল দেখে যা, তৃণমূলের ক্ষমতা। তুই বলেছিলিস, আমি শুনেছিলাম। এখন বলিনি বলবি না। তোরা তৃণমূল যখন করেছিস, আমরা তোদের কিছু বলিনি। তোদের দল করতেও যাইনি। ৪ তারিখ পর্যন্ত তোরা একটা দল করেছিস। তোদের কী মনে হয়, আমি হাতে চুড়ি পরে থাকি, তোদেরকে দুটো চড়-থাবরা মারতে পারতাম না। তোদেরকে বিরক্ত করতে পারতাম না।’ 

রাজ্য বিজেপির এই নেতা আরও বলেছেন, ‘মাননীয় মুখ্য়মন্ত্রী বলেছে, পুরনো লোকেদের বিরুদ্ধে কেস করতে, তোদের বিরুদ্ধে আমি কেস করব। যদি বিজেপির কোনও বড় নেতার সাথে ১টা ছবি দেখতে পাই, আমি কেস করব। তোরা এলাকায় তৃণমূল কর, আমার কোনও সমস্য়া নেই। এলাকায় বিজেপির মিছিলে যদি হাঁটতে হয়, আমি আছি, সঞ্জয় দা আছে, সঞ্জয়দার অফিস আছে, রাজেশ যাদব এখানে বিধায়ক-বন্ধু, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করবি। তাঁদেরকে বলবি। আমি কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সংগঠন নেবে। ঠিক কি না… এরা বললে তবেই বিজেপিটা করবি। নচেৎ যদি বিজেপির পতাকা থেকে কোনও কিছু তোদের দেখেছি, আমি পরিষ্কার বললাম, পরিণতি খুব খারাপ করে দেব। আমি তোদের ছবি নিয়ে তৃণমূল জমানার দুষ্কৃতী বলে এখানে ছাপাব এরপরে। দেবশ্রী চৌধুরী একা নয়, আরও কত কিছু ওরা করেছে, লিস্ট দেখে বের করতে হবে। তোরা সার্ভিলিয়েন্সে থাকবি। তোদের ওপর সার্ভিলিয়েন্স থাকবে। এটা আমি এখান থেকে বলে দিলাম।’ 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *