কলকাতা : ‘ভোটে দাঁড়ানোর জন্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল তাঁরই কেন্দ্রের কাউন্সিলরের কাছ থেকে।’ এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর আরও বক্তব্য, এই টাকা দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়ে তাঁর বন্ধুর কাছে ফোন এসেছিল, এমনকী তাঁর কাছেও ফোন এসেছিল বলে দাবি তাঁর। রীতেশ বলেন, “বর্তমানে একজন কাউন্সিলর…আমার কেন্দ্রের কাউন্সিলর, তিনি তৃণমূলের তিনটি টুকরোর মধ্যে কোন টুকরোর প্রতিনিধি তা আমি জানি না…তিনি তাঁর ড্রাইভারকে দিয়ে আমাদের ড্রপবক্সে চিঠি ফেলিয়েছেন। পরে আমাদের এই নির্বাচনে যারা যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের কাছে স্বামী-স্ত্রী দু’জন গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে এসেছেন। আমার এক বন্ধুকে ফোন করেছেন। তাঁদের টাকা অফার করেছেন। সাতটা ফোন আমাকে করেছেন। এখনও রেখেছি, ডিলিট করিনি। যারা বিগত ১৫ বছর ধরে লুঠ করলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ আমাদের জিতিয়েছেন, তাঁদের পার্টির প্রার্থী করার জন্য আমরা কেন কনসিডার করতে যাব। অফার করছেন যে আমাকে কনসিডার করুন, সবাই রাজি আছেন…শুধুমাত্র আপনার জন্য দলে ঢোকা হচ্ছে না।”
এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপির নেতা রীতেশ তিওয়ারি বলছেন যে পুরসভার ভোটে বিজেপির নিজের লোক ছাড়া আর কেউ প্রার্থী হবে না। আচ্ছে বেশ, রীতেশ তিওয়ারি বলেছেন, আমি নয় মেনে নিলাম। তাহলে ড্রপবক্স কেন করেছিলেন ? নিজের দলের লোক ছাড়া যদি না করেন, তাহলে ড্রপবক্সটা করতে গেলেন কেন ? নিজের দলের লোকও কি নিজের দলের কাছে বলতে পারছেন না, তারজন্য ড্রপবক্স লাগে ? ফলে, এটা কোনও মানে হয় না। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা…তৃণমূল কাউন্সিলর টাকার অফার দিয়েছেন এবং রীতেশ তিওয়ারিকে…যে আপনি বলে দিলে আমার কাউন্সিলরগিরি হয়ে যাবে, রীতেশ তিওয়ারির তাতে আপত্তি। রীতেশ তিওয়ারির কি তাতে আপত্তি ছিল ? তৃণমূলের মন্ত্রী যদি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে তৃণমূলের কাউন্সিলর মনে করতেই পারেন, আমি বিজেপির কাউন্সিলর কেন, পারলে মেয়র হব। এটা পথ দেখিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দুবাবু তৃণমূলের মন্ত্রী, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। উত্তর দেবেন ?” অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তাঁর নামটা বলে দিন না ! তাঁকে আড়াল করা হচ্ছে কেন ? কীসের দরদ, কীসের প্রেম ? বলে দিন কে করেছে ! আমরা তো কাউকে আড়াল করছি না।”