‘যত বড় নেতাই হোক, এবার কাঁটা লাগিয়ে দিয়ে যাবে । নেতা মন্ত্রী সাংসদ যে-ই হোক, ছাড় পাবে না।’ এখানে গাড়ি থাকলে, নয় পুলিশ কাঁটা লাগিয়ে দেবে, না হলে চাকা খুলে নিয়ে চলে যাবে, গাড়ি সুস্থ অবস্থায় থাকবে না। এভাবে বিজেপি নেতাকেই হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ।  

ঘটনাটি  শুক্রবারের। পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে সংকীর্ণ রাস্তায় চার চাকা গাড়ি পার্ক করা ছিল স্থানীয় এক বিজেপি নেতার। তা দেখেই রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিধায়ক মানব গুহ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, ‘এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং। এরপর রাস্তায় গাড়ি রাখলে দোকানটাও বন্ধ হয়ে যাবে।’

তবে এই ঘটনায় দমে যাননি গাড়ির মালিক বিজেপি নেতা শ্যামল কুমার ধারা। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ বর্ধমানে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার জন্য গাড়িটি দোকানের সামনে এনে রাখা হয়েছে। এতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়নি। এতো যে নেতা মন্ত্রী বিধায়ক গাড়ি নিয়ে ছুটছেন- সেসব গাড়ি কোথায় থাকে?’ 

মেমারির রাস্তায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বেআইনি পার্কিং আটকানোর পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার অভিযানে নামেন বিধায়ক মানব গুহ। রাস্তায় মোটর সাইকেল ও গাড়ি পার্কিং করা আছে দেখে মেজাজ হারান বিধায়ক। জানিয়ে দেন, এভাবে মোটর সাইকেল রাখলে পাঁচশো টাকা জরিমানা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে হবে। 

গত ৩০ অক্টোবর মেমারি স্টেশন রোডে স্বচ্ছতা অভিযানে নামে মেমারি পুলিশ। স্বচ্ছতা অভিযানে যোগ দেন মেমারির বিধায়ক মানব গুহ।  তখনই দেখেন নিউ মার্কেট এলাকায় নিজের দোকানের  সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িটিকে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেটি বিজেপির মেমারি নগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ধারার গাড়ি। গাড়িতে বিজেপির যুব মোর্চার বোর্ডও ছিল। শ্যামল কুমার ধারার ছেলে যুব মোর্চার নেতা। রাস্তায় ওই গাড়ি পার্ক করা দেখেই সরব হন মানব। হুঁশিয়ারি দেন, ‘ এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং। এরপর পুলিশ কাঁটা লাগাবে। তাতেও কাজ না হলে টায়ার খুলে নিয়ে যাবে। দোকান খোলা বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর গাড়ির মালিককে বিধায়ক অফিসে দেখা করতে বলেন তিনি। ‘ 

পাশাপাশি বিধায়ক বেশ কিছু দোকানের সামনে রাখা বাইকও সরিয়ে নিতে বলেন। এছাড়াও একটি দোকানের আবর্জনা নর্দমায় পড়ে থাকতে দেখে , দোকানের মালিককে দিয়েই নর্দমা থেকে দোকানের আবর্জনা পরিস্কার করান বিধায়ক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *