ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, বারুইপুর : পালাবদলের রাজ্যে খুন হয়ে গেলেন বিজেপি কর্মী। ঘটনা বারুইপুরের। নৃশংসভাবে খুন হলেন বিজেপি কর্মী। কার্যত স্ত্রীয়ের সামনেই বাপি প্রামাণিককে কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। এমনটাই অভিযোগ পরিবারের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ এই ঘটনার পিছনে রয়েছে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র। আবার স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী দাবি করছেন, তৃণমূলের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে খুন করিয়েছেন বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতাও জড়িয়ে। তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল । তার প্রতিবাদ করেছিলেন বাপি প্রামাণিক, তাই খুন। অভিযোগ মৃতের পরিবারেরও।
পরিবার সূত্রে খবর, বাপি প্রামাণিক বহু বছর ধরেই বিজেপি করেন। আর বিজেপির কর্মী বলেই গত ১৮ বছর এলাকা ছাড়া ছিলেন। তৃণমূলের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন না। পালাবদলের পর ফিরে এসেছিলেন পরিবারের কাছে। পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও। অভিযোগ, কার্যত স্ত্রীয়ের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিজেপি কর্মীকে। খানিক দূরেই তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। মৃতের স্ত্রী পুতুল প্রামাণিক জানাচ্ছেন, ঘটনার আগে তাঁর স্বামীর কাছে একাধিক ফোন আসে। স্বামী জানান, ‘ বলল খানিকটা যাব আর চলে আসব। ‘ বাড়ি থেকে কিছুটা এগোলেই খুন করা হয় তাঁকে। স্ত্রীর বক্তব্য, বিজেপি করতেন বলেই ১৮ বছর বাইরে ছিলেন, ৩ মাস হল ফিরেছেন। বিজেপি ভোটে জেতার পরই গ্রামে ফেরেন তাঁরা। তারপরই এই ঘটনা। মৃতের মেয়ের দাবি, তাঁরা বারবার বাবাকে রাজনীতিতে জড়াতে মানা করতেন।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনায় বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে পরিবার। ঘটনায় আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। এবার এই খুনের পিছনে তারা, তৃণমূলের লোকজন নাকি বিজেপিরই বিরুদ্ধ গোষ্ঠী, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের মোটিভ সম্পর্কেও ধন্দ রয়েছে। এটি কি কোনও রাজনৈতিক খুন না কি কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল, তদন্ত চলছে।
এদিকে পরিবারের মানুষের হাহাকার, একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহিষ্ণু হতে বলছেন, বিজেপি কর্মীদের হানাহানি থেকে বিরত থাকতে বলছেন, সেখানে বিজেপির কর্মীরাই খুবন হয়ে যাচ্ছে।