কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিস্ফোরক মন্তব্য় করেছিলেন। ‘তৃণমূলের সাইনবোর্ড টাঙানোর লোক থাকবে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের নাম ও প্রতীকচিহ্ন ফ্রিজ় হওয়ার পর ফের এবিপি আনন্দে মুখ খুললেন তৃণমূলত্যাগী, মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব। তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপরই প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিলেন তিনি। আগামী দিনে তৃণমূল নামের দলটির কোনও রাজনৈতিক অস্তিত্বই থাকবে না বলে দাবি করলেন। (All India Trinamool Congress Name Freeze)

নির্বাচন কমিশন আপাতত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটি এবং ঘাসের উপর যে জোড়াফুল চিহ্নের প্রতীক, তা ফ্রিজ করেছে। সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্বজিৎ বলেন, “এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার টোটাল অথরিটি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। ১৯৭১ সালের সিম্বল অর্ডার নিয়ে যে অর্ডার হয়েছিল…সাদিক আলি বনাম ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের মামলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, প্যারাগ্রাম ১৫-র প্রতীক সংরক্ষণ অর্ডার অনুযায়ী কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।” (AITC Name-Symbol Freeze)

আরও পড়ুন: মমতার হাতছাড়া তৃণমূলের নাম ও প্রতীক, ‘মোদিকে জন্মদিনের উপহার জ্ঞানেশ কুমারের’, বলছে কংগ্রেস, সরব বিরোধী শিবির

বিশ্বজিৎ আরও বলেন, “আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। একনাথ শিন্ডের সময়ও হয়েছিল। প্রতীক ফ্রিজ করা হয়। কিন্তু এখানে তৃণমূল দলটার নাম ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ অস্তিত্বই থাকবে না দলটার। আসল ব্যাপার হল, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস বলে যে দলটাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল কমিশন, সেই দলের অস্তিত্ব রইল না কোনও। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে উভয়পক্ষই। কিন্তু ১৯৭১ সালে যে মামলাটা, তা কিন্তু ওভাররুলড হয়নি। সেখানে আদালতে বলে দিয়েছিল, কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এটার জল অনেকদূর গড়াবে। তবে আমার মনে হয়, আগামী দিনে রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও অস্তিত্ব থাকবে না।”

আরও পড়ুন: তৃণমূল-কংগ্রেস দলের নাম, প্রতীকচিহ্ন ফ্রিজ করা হল, সব নতুন করতে হবে মমতা-ঋতব্রতদের, সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী হওয়ার পরই খান খান হয়ে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।  সেই থেকে দলের প্রতীকচিহ্ন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে কমিশন। কোনও পক্ষই সেগুলি আপাতত ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূলের দাবি, এই নির্দেশ বেআইনি। বিষয়টি নিয়ে যা করার করবেন বলে জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের আবার দাবি, শেষ পর্যন্ত তাদের হাতেই প্রতীকচিহ্ন উঠবে।

কিন্তু এই ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। কংগ্রেস ছেড়ে ২৮ বছর আগে তৃণমূলের সূচনা করেছিলেন মমতা। দলের প্রতীকচিহ্ন পর্যন্ত তাঁরই আঁকা বলে জানা যায়। সেই দলের প্রতীকে জিতে তিনি সাংসদ হয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিন-তিন বার। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে নতুন নাম এবং প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামতে হবে তাঁর দলে। সেই নিয়ে মুখ খুলেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিজেপি-র ‘হাতের পুতুল’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *