কলকাতা : “এনডিএ-র সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু, সরসারি বিজেপিতে যাবে না।” তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে নিয়ে এমনই দাবি করেছেন NCPI সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর দাবি, ওই তিনজনকে বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে। তিন সাংসদ বলতে তিনি আবু তাহের, ইউসুফ পাঠান ও খলিলুর রহমানের কথা উল্লেখ করেছেন। আর তাঁর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এবার নিজের মতামত জানিয়ে দিলেন তৃণমূলত্যাগী NCPI সাংসদ আবু তাহের।

আবু তাহের বলেন, “আমি জগদীশ বাসুনিয়াকে দায়িত্ব দিইনি আমার আগামীদিনের কী কর্মসূচি করতে চাই…সুতরাং যেটা জগদীশ বাসুনিয়া বলেছেন, সেটা তাঁর নিজস্ব মতামত। তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। এখানে আমরা তাঁর সঙ্গে সহমত নই। তাঁর সঙ্গে এব্যাপারে আমরা কোনওভাবেই একমত নই। আমরা বিজেপিতে যাব না। এনডিএ-তে যাব না। এটা পরিষ্কার। আমরা তিনজন সাংসদ বারবার বলেছি, আমরা বিজেপি করব না। আমরা এনডিএ করব না। আমরা আমাদের উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী যদি কোনও দিন ডাকেন, তাঁর সরকারি মিটিংয়ে সেখানে যাব। মুখ্যমন্ত্রী যদি উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি মিটিং ডাকেন অফিসিয়ালি…সেখানে যাব। তাই বলে কোনও বিজেপির মিটিংয়ে বা এনডিএ-র শরিক হওয়ার জন্য কোনও মিটিংয়ে আমরা যাচ্ছি না, যাব না। এটা আমাদের ক্লিয়ার কথা।”

কী বলেছেন জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ?

জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেছেন, “আমরা বাকি ৩জনকে বাদ দিয়ে ১৭ জন আমরা আছি, আমরা ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দেব। সেটা পরিকল্পনা তৈরি আছে। বাকি তিনজনকে এমনি বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে। অলরেডি আবু তাহের খান, খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন দফতর দিয়ে তাঁরাও, এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। এনডিএ-র সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু, সরসারি বিজেপিতে যাবে না। যেহেতু তাঁদের এলাকা সংখ্যালঘু এলাকা। কিছু সমস্যা তাঁদের ওখানে আছে। সেজন্য তাঁরা এনডি-এর সমর্থক থাকবেন এবং এনডিএ-র হয়ে কাজকর্ম করবেন।” 

তাঁর সংযোজন, “২০ জন সাংসদ মিলিত হই। আমাদের বিজেপির নেতৃত্ব ভূপেন্দ্র যাদব, আমাদের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র নেতৃত্বে আমরা ২০ জন সাংসদ আমরা সই করি, আমরা সিদ্ধান্ত নিই আমরা বিজেপিতে যোগ দেব। বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়ে আমরা একটুখানি সমস্যা হল। আমাদের সঙ্গে তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ ছিলেন। আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান…তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন না। তাঁদের এলাকায় সমস্যা তৈরি হবে। তখন আমাদের দিল্লির নেতারা…শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বাকি সবাই…তাঁরা NCPI নামে এক আন-রিকোগনাইজড রাজনৈতিক দল…রেজিস্টার্ড কিন্তু আন-রেকোগনাইজড পার্টির সঙ্গে আমাদের মার্জার করিয়ে দিয়ে NCPI-তে মার্জার করে দিল। বিজেপি আমাদের NCPI-তে নিয়ে গেছে। আমরা বিজেপিতে যাওয়ার জন্য গেছি। সেটা করছেন সবাই বিজেপির নেতারা। অ্যান্টি-ডিফেকশন ল থেকে বাঁচানোর জন্য যাতে আমাদের তিনজন সদস্য সরে না যান- আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান। তারজন্য ওরাই করছে। আমরা জানতামই না। আমরা NCPI হইনি। এটা আমাদের কাগজে কলমে করে আগামীদিনে বিজেপিতে নেওয়ার…এটাই। আমরা ধন্যবাদ জানাই ভূপেন্দ্র যাদবকে যিনি কেন্দ্রীয়মন্ত্রী। যার বাড়িতে একবার নয়, চারবার বৈঠক হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই স্পিকারকে। তাঁর বাড়িতেও আমরা ২০ জন সাংসদ বসে একসঙ্গে সই করে আমরা কাগজ জমা দিই। আমাদের ২০ জন সাংসদকে একত্রিত করে NCPI-তে নিয়ে যাওয়ার যার সবথেকে বেশি সদর্থক ভূমিকা তিনি হচ্ছেন, আমাদের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের কাণ্ডারি শুভেন্দু অধিকারী।” 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *