বিজেন্দ্র সিং, নয়া দিল্লি : ডেবরার চাকরি দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছে আগেই। এর পাশাপাশি শালবনিতে জমি দুর্নীতিতেও নাম রয়েছে এই সুমিত রায়েরই। সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে পুরসভার কর্মীরা এবং পুলিশ একটি বিলবোর্ড খুলতে গেলে তা নিয়ে যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত মামলাতেও ডাক পড়েছে অভিষেকে PA সুমিত রায়ের। হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করে, সমন পাঠানো হয়েছে সুমিতের বাড়িতে। এবার সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য এল সামনে।
‘ঘুষ’ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার রেজিস্ট্রি অফিসের আধিকারিক
‘তৃণমূল-সহ একাধিক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা দিয়েছিলেন সুমিত রায়। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ছাড়াও নগদে টাকা জমা করা হয়েছিল একাধিক অ্যাকাউন্টে। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা এসেছিল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা অস্বীকার করেন অভিষেকের PA সুমিত রায়’, অভিষেকের PA-র আগাম জামিনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দাবি দেশের সলিসিটর জেনারেলের। ‘হাতে রয়েছে তথ্য প্রমাণ’, সুমিতের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে এমন দাবিও করেছে সলিসিটর জেনারেল। অন্যদিকে, সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের রেকর্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে। নগদে টাকা জমা করার অভিযোগের স্বপক্ষেও প্রমাণ পেশের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
বেপাত্তা টুলু মণ্ডল, বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ীর শ্যালকের গাড়িতে এবার মিলল বিদেশি মুদ্রা
সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুমিতের কালো টাকা ঢুকেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে, দাবি রাজ্য সরকারের। অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে, দাবি সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার। অন্যদিকে, SSC দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে তদন্তে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে যত কম কথা বলবেন ততই ভালো। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে তদন্তে কী করেছেন, সেটা সবার জানা। কীভাবে আপনারা বারবার পিছিয়ে এসেছেন সেটাও সবার জানা। হাইকোর্টের বিচারপতিরা বারবার একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলোর কি হয়েছে সেটাও আমাদের জানা আছে’, তদন্তকারী কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর। ‘কারও ক্ষেত্রে তদন্তের গতি স্লথ হয়ে গেছে, এমনও উদাহরণ আছে। কিছু ক্ষেত্রে সক্রিয়, কিছু ক্ষেত্রে তদন্তে আবার নিষ্ক্রিয় এজেন্সি’, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে ED, CBI-র ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট।
ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে ডেরেক ও’ব্রায়েন-কে ফের নোটিস, বুধবার তলব
অন্যদিকে সুমিত রায়ের আইনজীবী আবার আরেক দাবি করেছেন। ‘১১ দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলছে, সহযোগিতা করছি। অবৈধ জমির লেনদেন নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা হয়নি’, আগাম জামিন মামলার শুনানিতে দাবি সুমিত রায়ের আইনজীবীর। ‘বিপুল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করা হচ্ছে। দেখানো হচ্ছে ১০ লাখ লেনদেনের নথি’, দাবি সুমিত রায়ের আইনজীবীর। ‘১০ লাখ দেখা যাচ্ছে, বাকি টাকা ব্যাঙ্কে জমা করেনি, কালো টাকা হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র’, পাল্টা দাবি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে প্রশ্ন করা হয়েছে। ‘যে টাকা সুমিত রায় নিজে ব্যাঙ্কে জমা করেছিলেন, তা নিয়ে কি আপনার তদন্তকারী আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন? সে টাকা কোথা থেকে এসেছে, কে দিয়েছে?’ প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।