কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের পর কি অবস্থান বদলাতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ? জল্পনা উস্কে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সরকারের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে তাঁর মুখে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের উদ্দেশে কটাক্ষও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন অবস্থান পাল্টে ফেলেছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদাররা NCPI-তে মিশে গেছেন। মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা এখন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ। এবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ও কি সেই পথে হাঁটতে চলেছেন ?

জল্পনা উস্কে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যেদিন পদত্যাগ করছি, সেদিনও দেখেছি শুভেন্দুর মধ্যে কী যন্ত্রণা ! বলছে, দাদা আর পারছি না। বলল.. আমার পকেটে রেজিগনেশন…আমি দিয়ে চলে যাচ্ছি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়,  কে বলছেন পারছি না ? উত্তরে শোভন বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী বলছেন ১৪ তলায় দাঁড়িয়ে। কারণ তাঁকে ঠেলে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সেই সময়, মানে দেড় মিনিট আগে…১৪ তলায়…দাদা আর পারা যাচ্ছে না। সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত যে দাঁতে দাঁত কামড়ে…যে জীবনের সংহারে…বিভিন্ন…আজকের সে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছে।”  

গতবছর অক্টোবরে, অর্থাৎ তৃণমূল জমানায় NKDA-র চেয়ারম্যান করা হয় শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। একমাস পর তৃণমূলে ফেরেন তিনি। ভোটে ভরাডুবির পর, সোনারপুরে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন, সেদিন হাসপাতালে তাঁর পাশে দেখা গেছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু, এবার কি অবস্থান বদলাচ্ছেন তিনি ? জল্পনা উস্কে দিয়েছে তাঁর মুখে বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তের দরাজ প্রশংসা। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা…এই দুটোর মধ্যে…সত্যিই তো একটা গভর্নমেন্ট সার্কুলার আর দেওয়ার মধ্যে একটা সুবিধা-অসুবিধা আছে। সেগুলো ওভারকাম করছে। আয়ুষ্মান যোজনায় যেমন একটা জায়গায় নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আছে, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকেও কনট্রিবিউট করার জন্য নির্দিষ্ট গ্যাপ মেটাচ্ছে। ইন্টাস্ট্রিয়ালাইজেশনের জন্য ছোট ছোট সিগন্যাল দিতে দিতে একটা জায়গায় এগোচ্ছে।” 

সেই সঙ্গে তৃণমূলের সমালোচনাও করেছেন তিনি। শোভনের কথায়, “মানুষ উপলব্ধি করেছে, কোনও জায়গায় মানুষের উপলব্ধি কেন হল…যে শুধু শতরঞ্চি তোলার লোকগুলো বসে রইল… আমার কথা শুনল…কিন্তু মানুষ চুপচাপ ফুলে ছাপ বলে যে স্লোগানটা ছিল…সেই ফুলটা কেন পাল্টে গেল তারজন্য আত্মসমালোচনা করা উচিত।”

শেষ অবধি শোভন চট্টোপাধ্যায় কী করবেন ? সেই উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *